শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

‘তাদের এই পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত’

মেয়র মামদানির গ্রোসারি  প্রকল্পে অদ্ভুত অপচয় 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ২৯ মে ২০২৬

মেয়র মামদানির গ্রোসারি  প্রকল্পে অদ্ভুত অপচয় 

ছবি: সংগৃহীত

ইস্ট হারলেমে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলার ব্যয়ে একটি সরকারি মুদিদোকান (গ্রোসারি স্টোর) খোলার পরিকল্পনা এমন একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে, যেখানে অনেক বছর আগেই ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। মিডিয়া জানতে পেরেছে, এর ফলে এমন এক অদ্ভুত ও অযৌক্তিক সরকারি অপচয়ের (বোন্ডোগল) ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের পুরোপুরি বিভ্রান্ত ও হতভম্ব করে তুলেছে।

পার্ক অ্যাভিনিউতে মাটির ওপর দিয়ে যাওয়া ‘মেট্রো নর্থ’-এর রেললাইনের নিচে, ইস্ট ১১১ এবং ইস্ট ১১৯ স্ট্রিটের মাঝামাঝি অবস্থিত খাবার ও বাজারের জন্য পরিচিত ‘লা মার্কেটা’ নামক স্থানেই গত মাসে মামদানি এই সরকারি সুপারমার্কেটটি খোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আশেপাশের অন্যান্য সাধারণ দোকানের মতো এই নতুন সরকারি দোকানটিকে কোনো ভাড়া বা ট্যাক্স দিতে হবে না, যার ফলে এটি একদম নামমাত্র মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
তবে নগর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রায় এক দশক আগেই শহরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্পোরেশন (ইডিসি) ‘লা মার্কেটা’র পুনরুন্নয়নের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। ফলে এই বাজারের প্রস্তাবিত রূপান্তরের মোট খরচ এখন দাঁড়িয়েছে আকাশচুম্বী ৫৫ মিলিয়ন (৫.৫ কোটি) ডলারে।
কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের ফুড স্টাডিজের খ-কালীন সহযোগী অধ্যাপক স্টিফেন জাগোর বলেন, ‘এমনিতেই ৩০ মিলিয়ন ডলার সংখ্যাটি খুবই অতিরঞ্জিত ও অবিশ্বাস্য। এই বাজেটে তো দোকানের দরজার হাতল আর ক্যাশ রেজিস্টারগুলোও নিরেট সোনার হওয়ার কথা!’
জাগোর আরো যোগ করেন, ‘তার ওপর লা মার্কেটার বাকি অংশের জন্য, যা ইতিমধ্যে তার সোনালি সময় পার করে এসেছে, কয়েক বছর আগে আরো ২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল ভাবলে অবাক লাগে। আমার মনে হয়, তাদের এই পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
২০১৭ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী (যা ইডিসি কর্মকর্তারা চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে উপস্থাপন করেন), লা মার্কেটাতে একটি খেলার মাঠ, কুকুরের পার্ক, উন্মুক্ত বসার জায়গা এবং এমন একটি বাজার তৈরি হওয়ার কথা ছিল যা ‘একটি ফুড কোর্টের পরিবেশে তাজা শাকসবজি, মুদি পণ্য, তৈরি খাবার এবং সাধারণ মানুষের বসার জায়গা প্রদান করবে।’
ন্যাশনাল সুপারমার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যান্থনি পেনা জানান, গত মাসে মামদানি যখন প্রথমবারের মতো এই সরকারি মুদিদোকানের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, তখন তিনি ইডিসির এই পূর্ববর্তী প্রকল্পের কথা একবারের জন্যও উল্লেখ করেননি।
লা মার্কেটার পরিকল্পনা নিয়ে পেনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগর কর্মকর্তারা ‘তারা কী করছেন না করছেন, সে বিষয়ে কোনো কিছুতেই স্বচ্ছ ও খোলামেলা ছিলেন না।’
বিশেষ করে একটি বিষয় সবার মনে তীব্র খটকা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে; ইডিসির ওই প্রস্তাবে একটি পার্কিং লটের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চার্জ করার স্টেশন থাকবে।
অধ্যাপক জাগোর বলেন, ‘বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো সাধারণত বেশি দামি হয়ে থাকে, তাহলে কি তারা উচ্চ আয়ের মানুষদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন? দেখে মনে হচ্ছে ইস্ট হারলেমের সাধারণ বাসিন্দাদের সেবা করার যে মূল লক্ষ্য, সেদিকে তাদের কোনো মনোযোগই নেই।’
মেয়র মামদানি শহরের পাঁচটি বরো বা অঞ্চলের প্রতিটিতে একটি করে মোট পাঁচটি সরকারি দোকানের জন্য সব মিলিয়ে ৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছেন। সেই হিসাবে বাকি চারটি দোকানের প্রতিটির জন্য গড়ে খরচ পড়ে ১০ মিলিয়ন ডলার। পেনা প্রশ্ন তোলেন, এ হিসাবটিই মূলত আরো বেশি সন্দেহের জন্ম দেয়, কেন শহর কর্তৃপক্ষ কেবল এই ইস্ট হারলেমের দোকানটির জন্যই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালতে চাইছে।
গত ১৮ মে মামদানি ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্টে একটি সরকারি মুদিদোকান তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা আগামী বছর চালু হবে এবং এর আয়তন হবে ২০ হাজার বর্গফুট। ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পফোর্ড জুভেনাইল ডিটেনশন সেন্টারের (কিশোর সংশোধন কেন্দ্র) জায়গায় একটি আবাসিক আবাসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হবে।
ব্যবসায়ী নির্বাহীদের মতে, ম্যানহাটনে একটি ৯ হাজার বর্গফুটের সাধারণ মুদিদোকান তৈরি করতে সাধারণত মামদানির প্রস্তাবিত খরচের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ লাগে। ফলে, এ দোকানটি নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়ছে। কারণ এটি ইস্ট হারলেম এলাকায় ইতিমধ্যে টিকে থাকা এক ডজনেরও বেশি স্থানীয় দোকানের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে।
পেনা বলেন, ‘তারা একটি ২০ হাজার বর্গফুটের দোকানের জন্য খরচ করবে ১০ মিলিয়ন ডলার, আর একটি ৯,০০০ বর্গফুটের দোকানের জন্য খরচ করবে ৩০ মিলিয়ন ডলার! এখানে স্পষ্টতই একটা বিশাল গরমিল রয়েছে এবং উত্তরের চেয়ে প্রশ্নের সংখ্যাই এখন বেশি।’
মিডিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্পোরেশন (ইডিসি) নিশ্চিত করেছে, মামদানির প্রস্তাবিত ৩০ মিলিয়ন ডলারের দোকান এবং সংস্থার অনেক বছরের পুরোনো ২৫ মিলিয়ন ডলারের সংস্কার প্রকল্প দুটি পুরোপুরি আলাদা বিনিয়োগ।
সংস্থাটি জানায়, এই ৩০ মিলিয়ন ডলার মূলত ‘একেবারে গোঁড়া থেকে একটি সরকারি মুদিদোকান নির্মাণ ও তার সাজসজ্জা, দোকানের ভেতরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ইভি চার্জিং সুবিধাসহ পার্কিং লট তৈরির কাজে’ ব্যয় করা হবে। তবে খরচের বিস্তারিত বিবরণ দিতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইডিসি মিডিয়ার কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, আগের ২৫ মিলিয়ন ডলারের কোনো অংশই এই নতুন সরকারি মুদিদোকানের জন্য ব্যবহার করা হবে না। তারা আরো প্রকাশ করেছে, এই মুদিদোকান এবং এর পাশের পার্কিং লটটি লা মার্কেটার উত্তর প্রান্তে, ইস্ট ১১৭ এবং ইস্ট ১১৯ স্ট্রিটের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত হবে।
 

শেয়ার করুন: