ছবি: সংগৃহীত
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-কে নতুন নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিচ্ছে, যাতে কোনো অভিবাসন আইনজীবী জালিয়াতিপূর্ণ বা মিথ্যা অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) আবেদনে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়ার যে আইনি প্রক্রিয়া (অ্যাসাইলাম) রয়েছে, তাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিকতম প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে পাঠানো স্মারকলিপিতে অভিবাসন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে যে, তারা ‘দাবি করছেন যে, প্রায় প্রতিটি অবৈধ অভিবাসীই তাদের নিজ দেশে জাতিগত পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের মতো সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্যের কারণে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হতে যাচ্ছেন।’
এই স্মারকলিপিতে আইসিই-কে জালিয়াতি রোধে নতুন নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, ‘অভিবাসন আদালতে যেসব আইনজীবী মিথ্যা অ্যাসাইলাম আবেদন দাখিল করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আইনজীবীরা আদালতের কার্যধারায় সঠিক তথ্য দিতে নৈতিকভাবে বাধ্য এবং তারা তা করতে ব্যর্থ হলে ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন। তা সত্ত্বেও এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নথিপত্র জালিয়াতির অপরাধে শাস্তির বিধান রাখা ধারাটির উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগের জেনারেল কাউন্সিল জেমস পার্সিভাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অ্যাসাইলামের মতো সুরক্ষার আবেদনগুলো মূলত সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত কিছু পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট। কিন্তু অবৈধ অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের জন্য এটি একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যে, তারা দাবি করেন প্রায় প্রতিটি অবৈধ অভিবাসীই তাদের নিজ দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হতে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিকভাবে আইসিই এই ধরণের আচরণ ঠেকাতে অভিবাসন বিচারকদের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফৌজদারি জালিয়াতি আইনের প্রয়োগের ওপর নির্ভর করত; তবে আইসিইর নিজস্ব কিছু হাতিয়ারও রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন এই নির্দেশনার ফলে আইসিইর আইনজীবীরা আইন প্রয়োগ করার এবং অবৈধ অভিবাসী ও আইনজীবীদের মাধ্যমে আমাদের অ্যাসাইলাম ব্যবস্থার এই অপব্যবহার বন্ধ করার আরো বড় কর্তৃত্ব পেলেন।’
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস কাউন্সিল হেদার হোগান বলেন, প্রশাসন অভিবাসন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালতে মক্কেলদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দীক্ষা বা কোচিং দেওয়ার যে ভুল দাবি করে আসছিল, সেটিকেই তারা এখন ‘দ্বিগুণ উৎসাহে’ প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
হোগান উল্লেখ করেন, মানবপাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে উৎসাহিত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা যে জালিয়াতির পেছনে ছুটছে, বাস্তবে সেই জালিয়াতি ঘটছে না।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা জালিয়াতি ও মিথ্যা উপস্থাপনের সাথে এমন কিছু মামলাকে গুলিয়ে ফেলছে যেগুলোর সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’
হোগান এর আগে অ্যাসাইলাম অফিসার হিসেবে কাজ করেছিলেন যিনি মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার অনেক আবেদনসহ বিভিন্ন মামলা পর্যালোচনা করতেন, যেখানে আবেদনকারীরা মূলত গ্যাং কালচার বা পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসতেন।
তিনি বলেন, ‘তারা প্রকৃত সহিংসতা এবং প্রকৃত গুরুতর ক্ষতি থেকে বাঁচতেই পালিয়ে আসছে। তবে সমস্যা হলো, তাদের এই দুর্দশার দাবিগুলো সবসময় মার্কিন অ্যাসাইলাম আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট সুরক্ষার কাঠামোর সাথে হুবহু মেলে না।’
ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাসাইলাম সংকুচিত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কোভিড মহামারির সময়ে এই সুরক্ষায় প্রবেশাধিকার স্থগিত করেছিলেন এবং তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই অ্যাসাইলাম সীমিত করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
হোগান মিডিয়াকে বলেন, ‘তাদের নানামুখী পদক্ষেপ থেকে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, তারা মূলত এই অ্যাসাইলাম কর্মসূচিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে চাইছে।’

















