ছবি: সংগৃহীত
গভর্নর ক্যাথি হোকুল ডাচিস কাউন্টির পকিপসি শহরে ১৪৭ মিলিয়ন (১৪.৭ কোটি) ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য ১৮৭ ইউনিটের একটি বহুমুখী সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প ‘ওয়ালেস ক্যাম্পাস’-এর নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। মেইন স্ট্রিটে অবস্থিত এই প্রকল্পের অধীনে একটি পরিত্যক্ত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে সংস্কার করার পাশাপাশি আরো দুটি নতুন ভবন তৈরি করা হবে।
গভর্নর হোচুলের নেতৃত্বে ‘নিউ ইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল’ (এইচসিআর) হাডসন ভ্যালি এলাকায় ৯,০০০-এরও বেশি সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি বা সংস্কার করেছে, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি বাড়ি রয়েছে কেবল ডাচিস কাউন্টিতেই। ওয়ালেস ক্যাম্পাস প্রকল্প মূলত এই প্রচেষ্টারই একটি অংশ এবং এটি গভর্নর হোচুলের ৫ বছর মেয়াদী ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক আবাসন পরিকল্পনার আওতাভুক্ত; যা পুরো রাজ্যজুড়ে এক লাখ সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি বা সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
গভর্নর হোচুল বলেন, ‘ওয়ালেস ক্যাম্পাস কেবল পকিপসির মেইন স্ট্রিট করিডোরে নতুন সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগই তৈরি করবে না, বরং এটি শহরে নতুন অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনবে এবং পকিপসির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বাঁচিয়ে রাখবে। এটি স্রেফ একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ নয়; এটি পকিপসির কেন্দ্রস্থল (ডাউনটাউন) এবং এর ভবিষ্যতের পেছনে একটি বড় বিনিয়োগ।’
‘মেগা ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ’ এবং ‘অ্যামেট্রিন গ্রুপ’-এর যৌথ উদ্যোগে এবং স্থানীয় সামাজিক সেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘মেন্টাল হেলথ আমেরিকা অব ডাচিস কাউন্টি’-এর অংশীদারিত্বে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাবেক ‘ওয়ালেস ডিপার্টমেন্ট স্টোর’ ভবনটিকে ৬৯টি অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করা হবে এবং বাকি দুটি নতুন ভবনে আরো ১১৮টি আবাসন ইউনিট তৈরি করা হবে।
ওয়ালেস ক্যাম্পাসের এই ফ্ল্যাটগুলো ওই এলাকার মধ্যম আয়ের (এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম) সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়া হবে। এখানে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়াও এক, দুই এবং তিন শয়নকক্ষ বিশিষ্ট (বেডরুম) ফ্ল্যাটের মিশ্রণ থাকবে। এর মধ্যে ৩০টি ‘সাপোর্টিভ ইউনিট’ (সহায়ক আবাসন) এমন ভাড়াটেদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে যারা ওই স্থানেই বিভিন্ন ধরণের সরকারি সাহায্য বা সেবা পাওয়ার যোগ্য। এই সেবাগুলোর মধ্যে থাকবে হোম হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিটি শিক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তা ও আইনি পরামর্শ।
ওয়ালেস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তিনটি ভবন জুড়েই নিচতলায় ২২,০০০ বর্গফুটেরও বেশি বাণিজ্যিক খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র (রিটেল স্পেস) থাকবে। মেইন ও ক্যাথরিন স্ট্রিটের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত এই প্রকল্পটি পকিপসির ‘ডাউনটাউন রিভাইটালাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’ (কেন্দ্রস্থল পুনরুজ্জীবন উদ্যোগ)-এর লক্ষ্যগুলোকে পূরণ করবে। এলাকাটি থেকে গণপরিবহন, শহরের অন্যান্য নাগরিক সুবিধা, কেনাকাটার দোকান, সামাজিক সেবামূলক সংস্থা এবং পকিপসি মেট্রো নর্থ ট্রেন স্টেশনের কাছাকাছি রেস্তোরাঁগুলোতে খুব সহজেই যাতায়াত করা যাবে।
ওয়ালেস ক্যাম্পাস প্রকল্পটি ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ, পরিকাঠামোর বহুমুখী ব্যবহার এবং মেইন স্ট্রিটের পুনরুজ্জীবনকে ত্বরান্বিত করবে। ১৮৭০-এর দশকে নির্মিত এই ওয়ালেস ডিপার্টমেন্ট স্টোরটি ১৯৭০-এর দশকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত পকিপসির একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। এরপর ভবনটি কয়েক দশক ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ২০২২ সাল থেকে পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
প্রকল্পের ভেতরে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বসার বেঞ্চসহ সুদৃশ্য ইটের তৈরি হাঁটার পথ, একটি প্রাণবন্ত সবুজ উদ্যান এবং শিশুদের খেলার জন্য ‘ওয়ালেস গ্রিন’ নামে একটি নতুন খেলার মাঠ থাকবে; যেখানে বছরজুড়ে জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে। দুটি ভবনের নিচতলায় থাকবে চারপাশজুড়ে বড় কাচের জানালা, যা ভেতরের বাসিন্দাদের বাইরের এই সবুজ উদ্যানের সাথে যুক্ত করবে।
এছাড়াও প্রতিটি ভবনে একটি গেম রুম, ফিটনেস স্পেস, সিনেমা দেখার ঘর (মুভি স্ক্রিনিং রুম), কো-ওয়ার্কিং স্পেস (যৌথ কাজের জায়গা), স্টাডি হল এবং সাইকেল রাখার ঘর থাকবে। আবাসন প্রকল্পের অ্যাপার্টমেন্টগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সহজেই চলাফেরা করতে পারেন। এর মধ্যে ১১টি ইউনিট চলাচলে অক্ষম বাসিন্দাদের জন্য এবং ৫টি ইউনিট সংবেদনশীল প্রতিবন্ধকতা (যেমন দৃষ্টি বা শ্রবণ প্রতিবন্ধী) থাকা বাসিন্দাদের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। পুরো আবাসনটি হবে পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত; যেখানে অ্যানার্জি স্টার সার্টিফাইড যন্ত্রপাতি, সাশ্রয়ী পানির কল (লো-ফ্লো প্লাম্বিং) এবং অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার রোধে মোশন সেন্সর ব্যবহার করা হবে।
ওয়ালেস ক্যাম্পাস প্রকল্পটি এইচসিআর-এর বেশ কয়েকটি তহবিল দ্বারা সমর্থিত; যার মধ্যে ফেডারেল লো-ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রাম থেকে ৪৬ মিলিয়ন ডলারের সমমূলধন (ইকুইটি), স্টেট লো-ইনকাম হাউজিং ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রাম থেকে ১২.৯ মিলিয়ন ডলারের ইকুইটি, সাপোর্টিভ হাউজিং অপরচুনিটি প্রোগ্রাম থেকে ৩৮ মিলিয়ন ডলার, মিডল-ইনকাম হাউজিং প্রোগ্রাম থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার এবং রুরাল অ্যান্ড আরবান কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, এইচসিআর এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যানার্জি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির যৌথ উদ্যোগ ‘ক্লিন এনার্জি ইনিশিয়েটিভ’ তহবিল থেকে ১.৪ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে এই প্রকল্প। এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট তাদের রিজিওনাল কাউন্সিল ক্যাপিটাল ফান্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেবে সাড়ে সাত লাখ ডলার।
প্রকল্পটি ডাচিস কাউন্টি হাউজিং ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ২.২ মিলিয়ন ডলার এবং এর হোম ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের সহায়তা পাচ্ছে। এই নির্মাণ এলাকাটি নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশনের সফল ‘ব্রাউনফিল্ড ক্লিনআপ প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিয়েছে এবং কাজ শেষ হলে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সের মাধ্যমে ১৪.৬ মিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স ক্রেডিট বা কর ছাড় পাওয়ার যোগ্য হবে। এছাড়া, নিউ ইয়র্ক স্টেট অফিস অব পার্কস, রিক্রিয়েশন অ্যান্ড হিস্টোরিক প্রিজারভেশন এই প্রকল্পে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ঐতিহাসিক ট্যাক্স ক্রেডিট এবং ৫ মিলিয়ন ডলারের স্টেট ঐতিহাসিক ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবহারের সুবিধা করে দিচ্ছে।

















