ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের শিক্ষকদের অবসরের বয়স কমিয়ে ৫৮ বছর করা হতে পারে। শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর চাপে এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সম্মতিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ চুক্তির অংশ হিসেবে এটি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজ্য বাজেটের দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার সময় এই চমকপ্রদ প্রস্তাবটি সামনে আসে। জনসেবামূলক পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে গভর্নর হোকুল ও ইউনিয়নগুলোর মধ্যে দফায় দফায় প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাবের পর এই সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
বুধবার সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, পেনশন সংস্কারের এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত বা পুরোপুরি ‘পাকা’ হয়নি। ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে শুরুতে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব ছিল, যেখানে ৩০ বছর চাকরি পূর্ণ করা সব সরকারি কর্মীর অবসরের বয়স ৫৫ করার দাবি জানানো হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাবটি ওই বড় পরিকল্পনারই একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি অবসরের বয়স কমাতে ইচ্ছুক। তিনি ইউনিয়নগুলোর সেই যুক্তিই আবার তুলে ধরেছেন যে, বর্তমানে কর্মী নিয়োগ এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি ‘সংকট’ চলছে। সোমবার দ্য পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কর্মীদের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, তাই এক নম্বরে আমাকে তা সমাধান করতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা জানেন, আগে একটি খুব ব্যয়বহুল ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, যা এখন নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।’
২০১২ সালের পর নিয়োগপ্রাপ্ত ‘টায়ার সিক্স’ পর্যায়ের সরকারি কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা বাড়ানোর এই আলোচনাটি পর্দার আড়ালে গভর্নর হোকুল এবং এএফএল-সিআইও সভাপতি মারিও চিলেন্টোর মধ্যে চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রস্তাবে বিশেষ করে ‘টায়ার সিক্স’ভুক্ত শিক্ষকদের কথা বলা হয়েছে, যাতে তাদের অবসরের বয়স ৫৮ নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, এই চুক্তির আওতায় অন্য সব ‘টায়ার সিক্স’ কর্মী, যার মধ্যে জনস্বাস্থ্যকর্মী এবং স্টেট পুলিশও রয়েছে, তাদের অবসরের বয়স কমিয়ে ৬০ বছর করার কথা বলা হয়েছে।
২০১২ সালে যখন পেনশনের খরচ কমানোর জন্য এই ‘টায়ার সিক্স’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তখন এটি প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার সরকারি কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ওই বিতর্কিত সংস্কারে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৩ বছর করা হয়েছিল এবং কর্মীদের বেতনের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত কন্ট্রিবিউশন বা চাঁদা দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছিল।
ইউনিয়নগুলো, বিশেষ করে প্রভাবশালী ‘ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ টিচার্স’, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিল। বর্তমান বাজেট আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়া এবং গভর্নর হোকুলের পুনঃনির্বাচন সামনে থাকায় এই দাবিগুলো আরও জোরালো হয়েছে।
এই তৎপরতা এমন এক সময়ে চলছে যখন মেয়র জোহরান মামদানি ক্লাসের আয়তন কমানোর একটি ব্যয়বহুল সরকারি নির্দেশ স্থগিত করার চেষ্টা করছেন। ছাত্র ভর্তি কম হওয়া সত্ত্বেও এই নিয়মটি কার্যকর করার পক্ষে ছিল ইউএফটি। কিন্তু মেয়র মামদানি শহরের ভঙ্গুর বাজেট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এটি পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

















