ছবি: সংগৃহীত
মেয়র জোহরান মামদানি বুধবার রাজ্য আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির বিশাল এবং বিতর্কিত ১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মেটানোর একমাত্র পথ হলো ধনীদের ওপর কর বাড়ানো। উল্লেখ্য, এই কর বর্তমানেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তার এই মন্তব্যগুলো স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে, ‘হিজঅনার’ (মেয়র) কোটিপতিদের ওপর কর বাড়াতে বদ্ধপরিকর। এমনকি গভর্নর ক্যাথি হোকুল তার সর্বজনীন শিশু যতœ কর্মসূচিতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। অথচ সমস্ত লক্ষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মেয়রের প্রশাসন যতটা দাবি করেছে, শহরের বাজেট ঘাটতি আসলে ততটা ভয়াবহ নয়।
অ্যালবানিতে নিজের প্রথম ‘টিন কাপ ডে’-এ মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য আইনসভার কাছে প্রস্তাব করেন যেন ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করা ব্যক্তিদের ওপর আয়কর ২% বাড়ানো হয়।
৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটির শীর্ষ ১% ধনী ব্যক্তি কর হিসেবে আরো ২০,০০০ ডলার দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কেবল এই ২% কর আমাদের বাজেট ঘাটতির প্রায় অর্ধেক মিটিয়ে দেবে। আমি এই নীতিগুলোর পক্ষে কথা বলে যাব। কারণ এগুলো কেবল এই সংকট থেকে উত্তরণের সহজ পথই নয়, বরং এগুলো আমাদের রাজ্যে যা সম্ভব তার সংজ্ঞাও বদলে দেবে।’
এই তরুণ সমাজতান্ত্রিক মেয়রের প্রস্তাব কার্যকর হলে নিউইয়র্কের কোটিপতিদের স্থানীয় করের হার বেড়ে ৫.৮৬% হবে। যখন এর সাথে রাজ্য আয়কর যোগ করা হবে, তখন নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে ধনী কোটিপতি ও বিলিয়নিয়ারদের কার্যকরী প্রান্তিক করের হার দাঁড়াবে ১৬.৭৬%। এই কর হবে শীর্ষ উপার্জনকারীদের ওপর ধার্য করা ৩৭% ফেডারেল আয়করের অতিরিক্ত।
‘ট্যাক্স ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের শীর্ষ উপার্জনকারীরা বর্তমানে কার্যকরীভাবে ১৪.৭৬% কর দেন। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার ধনী বাসিন্দাদের চেয়েও বেশি (ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বোচ্চ প্রান্তিক হার ১৩.৩%)। লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া, হিউস্টন এবং বোস্টনের বাসিন্দাদের ধনী বা গরিব নির্বিশেষে অতিরিক্ত কোনো শহরভিত্তিক আয়কর দিতে হয় না।
আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র জোর দিয়ে বলেন যে, তার প্রস্তাবিত এই কর বৃদ্ধি কেবল নিউইয়র্ক সিটির ধনীদের ওপর কার্যকর হবে, যা পুরো নিউইয়র্ক রাজ্যকে (এম্পায়ার স্টেট) তার এই ‘ধনী ট্যাক্স’ স্বপ্ন থেকে অব্যাহতি দেবে।
মামদানি তার ১০ বিলিয়ন ডলারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্যে সর্বজনীন শিশু যতœ এবং বিনামূল্যে বাস পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার খরচ মেটাতে ধনীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
তবে এই বামপন্থী মেয়রের ‘ইউটোপিয়ান’ বা কাল্পনিক দর্শনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান নগরীর বাজেট ওয়াচডগ ও কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন। তিনি সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, নগরীর বাজেট ঘাটতি ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

















