রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

পুন্টা গর্ডায় বাড়ির  দাম ৮% কমেছে

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পুন্টা গর্ডায় বাড়ির  দাম ৮% কমেছে

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডার আবাসন বাজারের ধীরগতি এখন পুন্টা গর্ডায় একটি পূর্ণাঙ্গ পতনে রূপ নিয়েছে। মেক্সিকো উপসাগর উপকূলীয় একসময়ের চাঙ্গা এ এলাকাটি এখন ফ্লোরিডার আবাসন দাম কমার তালিকায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুন্টা গর্ডায় একটি বাড়ির মধ্যক মূল্য ৭.৯৭% কমেছে। এর অর্থ মাত্র ১২ মাসে বাড়ির মালিকরা গড়ে ২৬,৬২৪ ডলার মূল্য হারিয়েছেন। ফ্লোরিডাজুড়ে বাড়ির মালিকরা একই সময়ে গড়ে ১০,১৫৭ ডলার হারিয়েছেন, যেখানে রাজ্যের নয়টি মেট্রো এলাকায় বাড়ির দাম পাঁচ অঙ্কের ঘর পর্যন্ত কমেছে।
ইট বিছানো রাস্তা, খালের ধারের বাড়ি এবং শান্ত সামুদ্রিক জীবনযাত্রার জন্য জনপ্রিয় এই শহরটি সম্পর্কে রিয়েলটর ওমের রেইনার ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অতিরিক্ত অবিক্রিত বাড়ি এবং ক্রেতার অভাবই সেখানকার বাজারকে নি¤œমুখী করে তুলছে।’
রেইনার উল্লেখ করেন, পুন্টা গর্ডা মূলত সারাসোটা এবং ফোর্ট মায়ার্স-এর মাঝামাঝি অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘নগরীটিতে নতুন বাসিন্দাদের আগমন ঘটছে। প্রায় ২০,০০০ বাসিন্দার এই ছোট শহরটি তার ধীরস্থির জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আবাসন বাজারে তালিকার মূল্যে ধারাবাহিক পতন এবং বাড়ি বিক্রি হতে দীর্ঘ সময় লাগার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বাড়িগুলো দ্রুত বিক্রি হচ্ছে না, যা মুষ্টিমেয় ক্রেতার জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’
রেইনার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ফ্লোরিডায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নির্মাণ সামগ্রীর চড়া দামের কারণে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ির বীমা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটি এমন অনেক মানুষকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে যারা হয়তো শখের বশে এলাকায় বাড়ি খুঁজছিলেন।’
এই পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত ঘটেছে। অতিমারিকালীন উন্মাদনার সময় পুন্টা গর্ডার বিক্রেতারা তাদের কেনা দামের চেয়ে গড়ে প্রায় ৮৮% লাভে বাড়ি বিক্রি করতেন। বর্তমানে সেই লাভের অংক কমে প্রায় ৫৮%-এ দাঁড়িয়েছে। এটি বাড়ির মালিকদের মুনাফার ক্ষেত্রটিকে সংকুচিত করে ফেলেছে—বিশেষ করে যারা উচ্চমূল্যের সময় বাড়ি কিনেছিলেন তারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাজ্যজুড়ে ১,৩০০-রও বেশি এজেন্টের ব্রোকারেজ নেটওয়ার্ক তদারককারী ডেরেক কার্লসন বলেন, প্রতিবেশী ধনী এলাকাগুলোর তুলনায় সস্তা হওয়ার কারণেই অতিমারির সময় পুন্টা গর্ডায় জোয়ার এসেছিল। ন্যাপলস, মার্কো আইল্যান্ড এবং সারাসোটার মতো ধনী এলাকাগুলোর মাঝে অবস্থিত এই শহরটি কম বাজেটের ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই পরিস্থিতির কারণে দাম অনেকটা ফুলেফেঁপে ওঠে এবং ফটকাবাজ ক্রেতা ও ডেভেলপাররা আকৃষ্ট হয়। এখন সেই ‘অতিমারি যুগের চড়া দাম’ ঝরে পড়ছে এবং বাড়িগুলো তাদের ‘প্রকৃত মূল্যে’ ফিরে যাচ্ছে, কারণ এলাকাটির দাম কিছুটা বেশি হয়ে গিয়েছিল।
 

শেয়ার করুন: