ছবি: সংগৃহীত
জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা শ্রমবাজার চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ খবরটি আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার কমানোর যে আশা ছিল, তাতে পানি ঢেলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বুধবার ‘ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিক্স’ (বিএলএস) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে মার্কিন নিয়োগকর্তারা ১৩০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত করেছেন। এটি ডিসেম্বর মাসের তুলনায় অনেক বেশি এবং বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ৫৫,০০০ পদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪.৪% থেকে সামান্য কমে ৪.৩%-এ দাঁড়িয়েছে।
বার্ষিক সংশোধিত তথ্যে দেখা গেছে, গত দুই বছরে প্রাথমিক রিপোর্টের তুলনায় ১.২ মিলিয়ন কর্মসংস্থান কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পূর্বের প্রবৃদ্ধি আসলে ধারণার চেয়ে অনেক দুর্বল ছিল।
শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫) মার্কিন নিয়োগকর্তারা মাত্র ১৮১,০০০ কর্মসংস্থান যোগ করেছেন, যেখানে প্রাথমিক হিসাব ছিল ৫৮৪,০০০। একইভাবে ২০২৪ সালে দেশে ১.২ মিলিয়ন কর্মসংস্থান হয়েছে, ২ মিলিয়ন নয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অতিমারি বাদে ২০০৯ সালের পর ২০২৫ সালটি ছিল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ধীরগতির বছর।
তবে জানুয়ারির তথ্য কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কারণ ২০২৫ সালের ছুটির মৌসুমে খুচরা বিক্রেতারা খুব বেশি সাময়িক কর্মী নিয়োগ দেয়নি। ফলে ছাঁটাইয়ের সংখ্যাও কম ছিল, যা মূল পরিসংখ্যানকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় করে দেখাতে পারে।
সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবা (৮২,০০০) এবং সামাজিক সহায়তা (৪২,০০০) খাতে। নির্মাণ খাতে জানুয়ারিতে আরো ৩৩,০০০ কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে।
জানুয়ারিতে ফেডারেল সরকারি খাতে ৩৪,০০০ চাকরি কমেছে। শ্রমবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলো, ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের (যাদের প্রধান কর্মক্ষম বছর ধরা হয়) শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার লাফিয়ে ৮৪.১%-এ পৌঁছেছে, যা ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ।

















