ছবি: সংগৃহীত
সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার সতর্ক করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন প্রয়োগ নীতিতে আরো পরিবর্তন আনা না হলে ডেমোক্র্যাটরা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ (ডিএইচএস)-এর অর্থায়নের প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে। এর ফলে আগামী শনিবার থেকে আংশিক সরকারি অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউন’ শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শুমার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা ডিএইচএস শাটডাউন থেকে মাত্র ৩ দিন দূরে আছি এবং রিপাবলিকানরা আইসিই-কে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সহিংসতা বন্ধের কোনো সমাধানে পৌঁছাতে এখনো গুরুত্ব দেখাচ্ছে না। বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রেখে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ডেমোক্র্যাটরা কোনো সিআর সমর্থন করবে না।’
শুমারের এ পোস্টটি মূলত বিভাগটির অর্থায়ন আটকে দেওয়ার একটি হুমকি। এই বিভাগের অধীনে বিমানবন্দরের টিএসএ এজেন্ট, দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং অভিবাসন ছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিনেটে যেকোনো আইন পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের বাধা অতিক্রম করতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন অপরিহার্য।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী একটি আপস বিলে পৌঁছানোর আলোচনা চলাকালীন কয়েক সপ্তাহের জন্য অর্থায়নের মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হন।
ডেমোক্র্যাট এবং হোয়াইট হাউস একে অপরের কাছে প্রস্তাব বিনিময় করছে, কিন্তু শুমার মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন, তারা এখনো রিপাবলিকানদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য এবং আইনি খসড়া পাননি।
একটি প্রধান মতপার্থক্যের জায়গা হলো ডেমোক্র্যাটদের একটি দাবি। এতে বলা হয়েছে, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের খোঁজে অভিবাসন কর্মকর্তারা যখন কোনো ঘরবাড়ি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করবেন, তখন তাদের বিচারিক ওয়ারেন্ট থাকতে হবে। ডেমোক্র্যাটদের মতে, এটি চতুর্থ সংশোধনীর দাবি। কিন্তু রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, এমন পদক্ষেপ ফেডারেল এজেন্টদের কাজে বাধা সৃষ্টি করবে।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন বুধবার ফক্স বিজনেসকে বলেন, ‘আপনি যদি বিচারিক ওয়ারেন্টের বাধা তৈরি করেন, তবে তা পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং এটি ধাপে ধাপে বিলম্বের সৃষ্টি করবে।’
এই বিতর্কের একটি বিড়ম্বনা হলো, অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলেও অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম থেমে থাকবে না। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের ট্যাক্স বিল থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হবে।
গত বছর স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি নিয়ে হওয়া রেকর্ডভাঙা শাটডাউনের তুলনায় এবারের শাটডাউনটি অনেক বেশি সীমিত হবে। কারণ সরকারের বাকি অংশগুলোর অর্থায়ন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত করা আছে।

















