সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

২৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট 

নিউইয়র্কে ধনীদের ওপর কর  বাড়ানোর পক্ষে মামদানি

নবযুগ রিপোর্ট

আপডেট: ২৩:৫৭, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

নিউইয়র্কে ধনীদের ওপর কর  বাড়ানোর পক্ষে মামদানি

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বাজেট প্রস্তাবকে একপাশে সরিয়ে রেখে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। গভর্নর যেখানে আয়কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখানে মামদানি বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষেই লড়বেন।

এটি মামদানির পক্ষ থেকে হোকুলকে বামপন্থী আদর্শের দিকে টেনে নেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামদানি এবং তার উদারপন্থী সমর্থকদের লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কের বিত্তবানদের ওপর কর বাড়িয়ে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করা, যা দিয়ে ‘বিনামূল্যে বাস ভাড়া’র মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
ম্যানহাটনের হুইটনি মিউজিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন এই যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে লাভজনক কর্পোরেশন এবং ধনীতম বাসিন্দাদের এখন তাদের ন্যায্য অংশ (কর) পরিশোধ করার সময় এসেছে।’
গভর্নর হোকুল যখন নির্বাচনী বছরে বাম এবং ডানÑউভয় পক্ষের চাপের মুখে ২৩০ বিলিয়ন (২৬০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল বাজেট পেশ করলেন, তার ঠিক এক দিন পরই মেয়রের এই মন্তব্য এলো। হোকুল তার বাজেটে সবার জন্য ‘প্রি-কে’ (প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা) পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করলেও তা মেয়রকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
মেয়র মামদানি জানান, নিউ ইয়র্ক সিটি পুরো রাজ্যের কর রাজস্বের ৫৪.৫% জোগান দেয়, কিন্তু বিনিময়ে পায় মাত্র ৪০.৫%। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে চাই। এর জন্য একদিকে যেমন উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে বেশি রাজস্ব প্রয়োজন, তেমনি সিটি হল এবং আলবেনির (রাজধানী) সম্পর্কের ভারসাম্যও জরুরি।’
মাত্র তিন সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নেওয়া মামদানি বর্তমানে আগামী দুই অর্থবছরের জন্য ১২.৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে রয়েছেন। এই আর্থিক সংকটের জন্য তিনি তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের ‘চরম অব্যবস্থাপনাকে’ সরাসরি দায়ী করেন। তবে তিনি গভর্নরের আর্থিক পরিচালনার প্রশংসা করে বলেন, স্টেট সরকার বর্তমানে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সিটির অবস্থা শোচনীয়।
মেয়রের এই অবস্থান হোকুলের জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোকুল একদিকে দলের বামপন্থী অংশকে খুশি করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে শহরতলির মধ্যপন্থী ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর মধ্যেই তিনি নিজের দলের ভেতরেই লেফটেন্যান্ট গভর্নর আন্তোনিও ডেলগাডোর কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান শুরু থেকেই হোকুলকে উদারপন্থীদের হাতের পুতুল হিসেবে চিত্রিত করার সুযোগ খুঁজছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় হোচুল চমকপ্রদভাবে মামদানিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই মামদানিই ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবিতে অনড় থাকায় হোকুলের বাজেট পরিকল্পনা নতুন সংকটের মুখে পড়ল। যদিও সিটি কন্ট্রোলার মার্ক লেভিনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে, ২০২৬ অর্থবছরে কর রাজস্ব ৭% বেড়েছে, তবুও অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট ঘাটতি মেটাতে মামদানি কর বাড়ানোর পথেই হাঁটছেন।
 

শেয়ার করুন: