সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

প্রযুক্তিতে অপরিহার্য আপডেট

৩ লাখ ডলারের বিমান  হচ্ছে উড়ন্ত অফিস

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:১১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

৩ লাখ ডলারের বিমান  হচ্ছে উড়ন্ত অফিস

ছবি: সংগৃহীত

স্টারলিংক এখন ব্যক্তিগত জেটগুলোর জন্য এক অপরিহার্য আপগ্রেড হয়ে উঠেছে। বড় বড় কোম্পানির সিইও এবং নির্বাহীরা এখন মাঝ আকাশে কোনো বাধা ছাড়াই জুম মিটিং এবং কল করতে পারার বিষয়টিকে উদযাপন করছেন।

২০২২ সালের অক্টোবরে এ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবাটি চালুর পর থেকে চার্টার্ড বিমানগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করেছেন ‘ব্লেড’-এর জেট চার্টার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাক্স শ্র্যাজ। তিনি বলেন, ‘আধুনিক বিমান চালনার ইতিহাসে যাত্রীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমাদের এমন অনেক ক্লায়েন্ট আছেন, যারা কেবল স্টারলিংক সুবিধা আছে এমন বিমানেই ভ্রমণ করেন। এটি অফিসের কর্মক্ষমতাকে মাঝ আকাশে হুবহু ফিরিয়ে এনেছে।’
যেসব নির্বাহীর নিয়মিত বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করতে হয়, তাদের জন্য এটি আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। প্রতি সপ্তাহে বিমানে যাতায়াত করেন এমন একজন সিইও (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, ‘এটি কাজের কাঠামোকে বদলে দিচ্ছে, আমি এখন আমার পুরো টিমকে সাথে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারি এবং বিমানটিকে একটি ভাসমান অফিসে পরিণত করতে পারি।‘
স্টারলিংক হলো ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে উচ্চগতির সংযোগ প্রদান করে। এটি বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার নি¤œ-কক্ষপথের স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পাঠানোর মাধ্যমে কাজ করে।
ম্যাক্স শ্র্যাজ বলেন, ‘মানুষ একবার এই পরিষেবার অভিজ্ঞতা পেলে তারা পরবর্তীতে এটিই দাবি করে। গত বছরের শুরুতে হয়তো ৫% মানুষ চার্টার জেটে স্টারলিংক চাইতেন, এখন সংখ্যাটি লাফিয়ে ৩০%-এ দাঁড়িয়েছে।‘
যারা জেটের মালিক বা যারা দীর্ঘমেয়াদী লিজে জেট ব্যবহার করেন, তারাও তাদের বিমানগুলো আপগ্রেড করছেন। শ্র্যাজ আরো যোগ করেন, ‘মানুষ আগে যেভাবে ওয়াইফাই আপগ্রেড করত, তার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে এখন বিমানে স্টারলিংক যুক্ত করছে।‘
তবে স্টারলিংক যুক্ত করার খরচ নেহাত কম নয়। এর জন্য বিমানের ওপরের অংশে একটি অ্যারোডাইনামিক অ্যান্টেনা (যা দেখতে ছোট কুঁজের মতো) বসাতে হয় এবং এর হার্ডওয়্যারটি বিমানের চাপযুক্ত ফিউজলেজের ভেতরে ড্রিল করে স্থাপন করতে হয়। এই স্থাপনা খরচ তিন লাখ ডলারের বেশি (সাথে পরিষেবা চালু রাখতে মাসে ১০ হাজার ডলার খরচ)। এছাড়া এই কাজের জন্য বিমানটিকে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ বসিয়ে রাখতে হয়।
তবে চার্টার্ড জেটগুলোর জন্য, যারা মহাদেশীয় এক ফ্লাইটের জন্য ছয় অঙ্কের ভাড়া নেয়, কিংবা অঢেল অর্থের মালিক বিলিয়নেয়ারদের জন্য এ বিনিয়োগটি অত্যন্ত সার্থক।
শুধু ব্যক্তিগত বিমানেই নয়, সাধারণ বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সেও এখন এই উন্নত সংযোগের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাচ্ছে। কাতার এয়ারওয়েজের মতো বেশ কিছু এয়ারলাইন্সে ইতিমধ্যেই স্টারলিংক রয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ঘোষণা করেছে যে তারা এই প্রযুক্তি স্থাপন করেছে এবং আগামী মাসগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে এটি চালু করবে।
নির্বাহীরা এটিকে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির একটি দুর্দান্ত উপায় হিসেবে দেখলেও, সবসময় যোগাযোগের আওতায় থাকাকে সবাই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না। একজন মধ্য-স্তরের কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে বিমানে ভ্রমণ ছিল আমার জন্য কিছুটা স্বস্তির সময়... অন্তত কল এবং ইমেইল এড়িয়ে যাওয়ার একটা অজুহাত থাকত। এখন ওই সুযোগটুকুও আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।‘
 

শেয়ার করুন: