ছবি সংগৃহীত
ইস্ট ভিলেজের একটি হাউজিং কো-অপারেটিভের (কো-অপ) ৩০ মিলিয়ন ডলারের পার্কিং লট বিক্রি করার প্রস্তাব নিয়ে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। কমপ্লেক্সটির রিজার্ভ ফান্ডের প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় ধরনের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ও আর্থিক নথিপত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক শেয়ারহোল্ডার।
টম্পকিন্স স্কয়ার পার্কের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত সাতটি ভবনের ‘মিচেল-লামা’ কমপ্লেক্স ‘ভিলেজ ভিউ’-এর বাসিন্দা সেবাস্তিয়ান কট ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে বই ও নথিপত্র সম্পর্কিত (বুকস-অ্যান্ড-রেকর্ডস) একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তার আবেদনে বছরের পর বছর ধরে চলা নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মিটিংয়ের নথিপত্র (মিনিটস) গায়েব বা ভুল থাকা, আর্থিক বিবরণীতে গরমিল এবং বারবার কোম্পানির নথিপত্র প্রদানে অস্বীকার করা।
দ্য পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কট বলেন, ‘ভিলেজ ভিউ-তে স্বচ্ছতা ও বৈধ শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আবেদনে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ই তথ্যপ্রমাণভিত্তিক ও আইনি বিষয়। এগুলোকে বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনার অর্থ হলো, এগুলোকে আর উপেক্ষা করার বা গুরুত্বহীন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’
আদালতের একটি প্রদর্শনী নথি অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ‘ভিলেজ ভিউ হাউজিং করপোরেশন’-এর পরিচালনা পর্ষদের উপস্থাপিত একটি তথ্যচিত্রে দেখা যায় যে, কো-অপটির রিজার্ভ ফান্ড ২০২১ সালের ১৮.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৬ সালে মাত্র ২.৯ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। কটের মতে, এত বড় একটা ধসের পেছনে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
কট জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলে ‘শেয়ারহোল্ডাররা বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপের মূল্যায়ন করতে পারবেন।’
ভিলেজ ভিউ বোর্ডের আইনজীবীরা এ বিষয়ে মন্তব্যের আহ্বানে সাড়া দেননি। তবে বাসিন্দাদের পাঠানো একটি চিঠিতে বোর্ডের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন যে, যেসব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে তা ‘বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত এবং/বা গোপনীয় ও সংবেদনশীল করপোরেট নথির অন্তর্ভুক্ত।’
ইস্ট সেকেন্ড থেকে ইস্ট সিক্সথ স্ট্রিট এবং ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে অ্যাভিনিউ এ পর্যন্ত বিস্তৃত ভিলেজ ভিউ তাদের ৪০ ফার্স্ট অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন ‘পার্কিং লট ৭’ বিক্রি করার চেষ্টা করছে, যেখান থেকে কর কাটার পরও প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার নিট আয় হতে পারে।
কট আদালতে বোর্ডের দেওয়া যে প্রেজেন্টেশন পেশ করেছেন, তাতে বোর্ড দাবি করেছে যে এই বিক্রির মূল উদ্দেশ্য হলো আবাসন প্রকল্পটিকে বার্ষিক পৌনঃপুনিক ঋণের হাত থেকে মুক্ত করা, ক্রমবর্ধমান খরচ মেটানো, রিজার্ভ ফান্ডে টাকা জমানো এবং ১,২৩৬টি ফ্ল্যাটের সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রাখা।
তবে কটের যুক্তি হলো, নিউ ইয়র্কের বিজনেস করপোরেশন ল অনুযায়ী পার্কিং লট বিক্রির এই চুক্তির জন্য ভিলেজ ভিউ-এর দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন প্রয়োজন। কোনো ভোটাভুটি ছাড়া এই চুক্তি আদৌ সামনে এগোতে পারে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
ভিলেজ ভিউ-এর ভূমি ব্যবহার বিষয়ক আইনজীবী জোডি স্টেইন পূর্বে দ্য পোস্ট-কে বলেছিলেন, এই অসমান আকারের জমিটি ১০০ বাই ২৩০ ফুট এবং এতে পুরো কমপ্লেক্সের ৩৪৫টি পার্কিং স্পটের মাত্র তিনভাগের একভাগ রয়েছে, যা তাদের মোট সম্পত্তির একটা সামান্য অংশ মাত্র।
কটের নেতৃত্বে গত জুন মাসে প্রস্তাবিত এই জমি বিক্রি ও পুনর্বিকাশের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা দাবি করে শত শত শেয়ারহোল্ডার একটি আবেদনে সই করেন।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে স্টিভেন আনদ্রুসেয়াস্কি নামের একজন মারাত্মক স্থূলতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা বাসিন্দা ভিলেজ ভিউ হাউজিং করপোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, নতুন পার্কিং চুক্তির ফলে কো-অপ চাইলে তাকে তার অ্যাপার্টমেন্টের ঠিক পাশেই পার্কিং লট ৭-এ থাকা পার্কিং স্পট থেকে সরিয়ে দিতে পারবে।
তিনি জানান, এর ফলে কো-অপটির জন্য একজন ডেভেলপার কোম্পানির কাছে জমিটি বিক্রি করা এবং পরিশেষে পার্কিং স্পটগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত করা আরও সহজ হয়ে যাবে।

















