ছবি নবযুগ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দোয়া মাহফিল ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর, রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে এ দোয়া মাহফিল ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়ূম।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। আয়োজকদের দাবি, এবারের মেজবানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করে আসছেন তারা।
আয়োজকরা জানান, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এই মেজবান আয়োজনের সূচনা হয় ২০১২ সালে। শুরুতে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হলেও সময়ের সঙ্গে এর পরিসর বাড়তে থাকে। বর্তমানে এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও প্রবাসীরা নিয়মিত এ আয়োজনে অংশ নেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি প্রবাসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতি বছর অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক সাড়া তাদের এ আয়োজনকে আরও বড় পরিসরে করতে উৎসাহিত করছে।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সামসুল আলম চৌধুরী, কো-অর্ডিনেটর মনির আহমেদ এবং সদস্য সচিব সেলিম হারুন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে প্রবাসের মাটিতে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার হয়, অন্যদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ নানা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও প্রবাসে টিকে থাকে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতা কামনা করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়।

















