শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

হুইসেলব্লোয়ারে উদ্ধার  ৮ বিলিয়ন  ডলার

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:২৭, ৩১ জুলাই ২০২৬

হুইসেলব্লোয়ারে উদ্ধার  ৮ বিলিয়ন  ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) আসন্ন ‘জাতীয় হুইসেলব্লোয়ার দিবস’ সামনে রেখে কর ফাঁকি ও জালিয়াতি প্রকাশ, করের ঘাটতি কমানো এবং আইনের প্রতি অনুগত থাকার সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে হুইসেলব্লোয়ারদের (অন্যায় বা অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী ব্যক্তি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে।

১৭৭৮ সালে পাস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হুইসেলব্লোয়ার আইন স্মরণে প্রতি বছর ৩০ জুলাই জাতীয় হুইসেলব্লোয়ার দিবস পালিত হয়। অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করাই এই দিবসের লক্ষ্য। ২০০৭ সালে আইআরএস-এর হুইসেলব্লোয়ার কর্মসূচি শুরুর পর থেকে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলারের বেশি অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং পুরস্কার হিসেবে তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আইআরএস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফ্রাঙ্ক জে. বিসিগিয়ানো বলেন, ‘অন্যায় প্রতিরোধ ও কর প্রশাসনে হুইসেলব্লোয়াররা ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অন্যদের নজর এড়িয়ে যাওয়া বা অবহেলা করা সমস্যাগুলো তারা সবার সামনে তুলে ধরেন। তাদের দেওয়া তথ্য আইআরএস-কে অসাধু কর্মকা- চিহ্নিত করতে, আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং যেসব করদাতা সততার সাথে আইন মেনে চলেন তাদের জন্য একটি ন্যায্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।’
আইআরএস হুইসেলব্লোয়ার অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এরিক মার্টিনেজ যোগ করেন, ‘জাতীয় হুইসেলব্লোয়ার দিবস উদযাপন হলো এই সাহসী ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ। জালিয়াতি ও অন্যায় প্রকাশ এবং অপকর্মকারীদের সতর্ক করার মাধ্যমে তাদের প্রচেষ্টা আমাদের কর ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। তাদের কাছ থেকে আমরা এমন সব গোপনীয় তথ্য পাই যা অন্যথায় কোনোভাবেই জানা সম্ভব হতো না, যা প্রকারান্তরে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে এবং কর আইন মেনে চলতে সাহায্য করে।’
আইআরএস হুইসেলব্লোয়ার প্রোগ্রাম : সফলতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
আইআরএস হুইসেলব্লোয়ার অফিস কোনো ব্যক্তির জন্য কর আইন লঙ্ঘনের খবর বা তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত নিরাপদ ও সহজ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কর, জরিমানা বা বকেয়া আদায় সম্ভব হলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ পুরস্কারও প্রদান করা হয়।
গত এক বছরে আইআরএস তাদের ডিজিটাল সেবাগুলো আরো উন্নত করেছে, যাতে যে কেউ সহজেই হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। একই সাথে নতুন নতুন জালিয়াতির ধরন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। 
এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে 
ডিজিটাল ফর্ম ২১১ : আইআরএস তাদের ‘ফর্ম ২১১’ (মৌলিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুরষ্কারের আবেদন) অনলাইনে চালু করেছে। ফলে এখন ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেই তথ্য জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর ফলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তথ্য জমা পড়ার হার রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।
সহজ অনলাইন রিপোর্টিং : প্রতারণা ও জালিয়াতির খবর জানাতে আইআরএস নামে একটি কেন্দ্রীভূত অনলাইন মাধ্যম চালু করেছে, যেখানে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে কীভাবে কাগজপত্রসহ তথ্য বা প্রমাণ জমা দিতে হবে।
হুইসেলব্লোয়ার অ্যালার্ট : আইআরএস হুইসেলব্লোয়ার অফিস তাদের ‘অ্যালার্ট’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে, যা নতুন কোনো কর জালিয়াতি বা ধান্দাবাজি সামনে এলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে এবং সন্দেহজনক কর্মকা- চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
বৈশ্বিক কর বাস্তবায়নে ভূমিকা : আইআরএস হুইসেলব্লোয়ার অফিস সাধারণ হুইসেলব্লোয়ার, আইনজীবী, অ্যাডভোকেসি গ্রুপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যৌথভাবে কাজ করছে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের কর কর্তৃপক্ষের হুইসেলব্লোয়ার প্রোগ্রামকে সহায়তা করাও অন্তর্ভুক্ত।
কর ফাঁকি বা অনিয়ম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে আইআরএস। সবচেয়ে মূল্যবান হলো সেসব তথ্য যা নির্দিষ্ট, সময়োপযোগী, তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য। তথ্য পাওয়ার পর যদি অর্থ বা বকেয়া কর আদায় করা সম্ভব হয়, তবে তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি আর্থিক পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
 

শেয়ার করুন: