ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গভর্র্নস আইল্যান্ড যেন দুই দিনের জন্য রূপ নিয়েছিল রঙ, শিল্প আর সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। বাংলাদেশি আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগে ২৫ ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আর্টক্যাম্প, যেখানে শতাধিক চিত্রশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিশু এবং বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
হাডসন ও ইস্ট রিভারের মিলনস্থলে অবস্থিত গভর্র্নস আইল্যান্ডের নোলান পার্কের ১৬ নম্বর ঐতিহাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ছিল চিত্রাঙ্কন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পীদের মুক্ত আড্ডা এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্মাতা শামীম আল আমিন নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
এ বছর ‘বিটুইন রিভার অ্যান্ড হারবার: স্টোরিজ দ্যাট ক্যারি আস’ শিরোনামে আয়োজিত এই শিল্পপ্রকল্পের স্রষ্টা ও কিউরেটর ছিলেন কায়সার কামাল। নদী, স্মৃতি, অভিবাসন, সংস্কৃতি এবং মানুষের আত্মপরিচয়ের গল্পকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো প্রদর্শনী। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, প্রবাসজীবনের অনুভূতি এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের নানা বাস্তবতা।
বাংলাদেশি আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। প্রদর্শনী, কর্মশালা, শিল্পী রেসিডেন্সি, মেন্টরশিপ ও যৌথ শিল্পপ্রকল্পের মাধ্যমে তারা নতুন শিল্পীদের এগিয়ে নিতে এবং বাংলাদেশের শিল্প-ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছে।
আয়োজনে বাংলাদেশের প্রয়াত দুই বিশিষ্ট শিল্পী কালিদাস কর্মকার ও মতলুব আলী-কে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। তাঁদের আঁকা চিত্রকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁদের শিল্পকর্ম ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গভর্র্নস আইল্যান্ড আর্টসের ‘অর্গানাইজেশনস ইন রেসিডেন্স’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে বিনামূল্যে প্রদর্শনী, শিল্পী রেসিডেন্সি এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নানা আয়োজন পরিচালনার সুযোগ পায়। বাংলাদেশি আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরামও সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয় মাসব্যাপী শিল্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এই আর্টক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন:
কায়সার কামাল, শামীম আরা, শামীম বেগম, শারমিন সিরাজী, স্বর্গা ভট্টাচার্য, শামীম সুব্রানা, সুজিত কুমার সাহা, সৈয়দ আজিজুর রহমান, তাজুল ইমাম, তাহমিনা সরকার, তারিক জুলফিকার, তাসনুভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জান্নাত সুলতানা, জেবুন নেসা কামাল, কালিদাস কর্মকার, মতলুব আলী, আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসেন, বার্কলা আজম, বাশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ছবি জুলফিকুর, দিনা জামান, দীপা দেবনাথ, ফারহানা ইয়াসমিন, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজল অ্যান্থনি দাস, খুরশিদ সেলিম, কে সি. মং, মোহাম্মদ হাসান রোকন, মোহাম্মদ সৈয়দুল হাসান, মোস্তফা টি. আরশাদ, নাজ হোসেন পলি, নুরুল হক, রহমান সায়েদুর, রোকেয়া সুলতানা, রুদ্র এম.ডি. আয়ুধ জাহাঙ্গীর, সালমা সিনহা কানিজ এবং সৈয়দ এম. হক।
দুই দিনের এই আয়োজন শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী ছিল না; এটি ছিল শিল্পের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরির এক অনন্য উদ্যোগ। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি শিল্পীরা যে বিশ্বমানের শিল্পচর্চা করছেন এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন, গভর্র্নস আইল্যান্ডের এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

















