শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

পাঠ দান নতুন করে হালনাগাদ

‘পড়ার বিজ্ঞান’ শিক্ষাদান  বাধ্যতামূলক হচ্ছে

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ২৪ জুলাই ২০২৬

‘পড়ার বিজ্ঞান’ শিক্ষাদান  বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

শিশুরা কীভাবে পড়তে শেখে সে সংক্রান্ত সুদীর্ঘকালের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিউ ইয়র্কের কর্মকর্তারা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোতে তাদের পাঠদান পদ্ধতি নতুন করে সাজানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

প্রস্তাবিত বিধিমালার অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা, দ্বিভাষিক শিক্ষা, ইংরেজি ভাষা শিখতে থাকা শিক্ষার্থী, সাক্ষরতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে, এমন অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে রাজ্যের ‘সাইন্স অব রিডিং’ বা ‘পড়ার বিজ্ঞান’ ফ্রেমওয়ার্কের সাথে তাদের পাঠদান পদ্ধতি পুনর্গঠন করতে হবে।
এই পাঠদান কাঠামোটি প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেয়, যার মধ্যে রয়েছে ধ্বনি ও অক্ষরের সম্পর্ক (ফোনিকস), ধ্বনিগত সচেতনতা, মৌখিক ভাষা, শব্দভা-ার, বোধগম্যতা এবং সাবলীলতা।
গত সপ্তাহে স্টেট বোর্ড অব রিজেন্টস-এর এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। এমন এক সময়ে এটি এলো, যখন কিছু বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, রাজ্যের প্রায় অর্ধেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিই শিক্ষকদের সঠিকভাবে পাঠদানের প্রশিক্ষণ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
ভাবী শিক্ষকদের তাদের মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষানবিস পাঠদানের একটি অংশ প্রমাণভিত্তিক সাক্ষরতা প্রদান এবং পঠন সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ব্যয় করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় ডিসলেক্সিয়া, যা অন্যতম একটি সাধারণ শিখন অক্ষমতা, সে বিষয়ে আরো স্পষ্ট প্রশিক্ষণের আবশ্যকতা রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এ প্রস্তাবটি রাজ্য ডিসলেক্সিয়া ও ডিসগ্রাফিয়া টাস্কফোর্সের সুপারিশের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠক চলাকালে বোর্ড অব রিজেন্টস চান্সেলর লেস্টার ইয়ং বলেন, ‘পড়ার বিজ্ঞানকে সমর্থনকারী জ্ঞানের ভিত্তি নতুন কিছু নয়। শিশুরা কীভাবে শেখে, বৃদ্ধি পায় ও বিকশিত হয়—সে সম্পর্কে আমাদের জানা জ্ঞানটুকু আমরা ব্যবহার করছি কি না এবং নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি বিদ্যমান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।’
যদি এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তবে শিক্ষক প্রশিক্ষণে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে এটিই হবে রাজ্য কর্মকর্তাদের নেওয়া অন্যতম বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ।
এমন এক সময়ে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি এলো, যখন অনেক শিক্ষার্থীই পড়ার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় ভুগছে। প্রায়ই মূল্যায়নের ‘স্বর্ণমান’ বলে বিবেচিত ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব এডুকেশনাল প্রোগ্রেস’-এর পঠন মূল্যায়নে রাজ্যের ৪০%-এরও বেশি চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সর্বনি¤œ নম্বর পেয়েছে। এটি ২০১৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি খারাপ। তবে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলের সাথে বৈপরীত্য দেখিয়ে রাজ্যের নিজস্ব পরীক্ষাগুলোতে গত কয়েক বছরে পড়ার দক্ষতা বাড়ার চিত্র দেখা গেছে।
 

শেয়ার করুন: