ছবি: সংগৃহীত
গণপরিবহনে কোন বিষয়টি প্রচারের জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে এমটিএ (মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি)-এর প্রধান কার্যালয়ে এক তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত বোর্ডের সভায় বেশ কয়েকজন বক্তা নগরীর বাসগুলোতে ‘মিউজিয়াম অফ সেক্স’-এর বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন। তাদের যুক্তি, প্রতিদিন যাতায়াতের সময় শিশুদের এই ধরনের বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি করা উচিত নয়।
বিজ্ঞাপন নিয়ে বক্তাদের উদ্বেগ
বক্তা বার্নার্ড ফিশম্যান বলেন, ‘এ বিজ্ঞাপনগুলো আমাদের মর্যাদা ক্ষুণœ করছে। এগুলো গণপরিসরকে সস্তা করে তুলছে এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আকুতি জানাচ্ছিÑদয়া করে, দয়া করে এমন বিজ্ঞাপন দেবেন না, যা হাজার হাজার আইনমান্যকারী নাগরিককে অসন্তুষ্ট ও আঘাত করে।’
টিডব্লিউইউ লোকাল ১০০-এর আলেকজান্ডার কেম্প যোগ করেন, ‘এটি অবিলম্বে তুলে নেওয়া দরকার। এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত আপত্তিকর।’
তবে এমটিএ-র চেয়ারম্যান এবং সিইও জ্যানো লিবার জানিয়েছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমি ওই মানুষগুলোর প্রতি সম্পূর্ণ সহানুভূতিশীল। তবে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই একেক মানুষের শালীনতার মানদ- একেক রকম হবে।’
আমাদের নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে
এই বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগে ২০১৮ সালেও এই বিজ্ঞাপনগুলো নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় বিজ্ঞাপনগুলো মাত্র এক মাসের মতো চলেছিল, যেখানে বর্তমান বিজ্ঞাপনগুলো গত ছয় মাস ধরে চলছে।
সিবিএস নিউজ নিউ ইয়র্ক-এর সাথে কথা বলা কয়েকজন সাধারণ যাত্রী অবশ্য বোর্ডের সভার মতো এতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না।
এক যাত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাই না।’
আরেক যাত্রী বলেন, ‘আরে ভাই, এটা নিউ ইয়র্ক, বুঝলেন না?’
লিবার জানান, এমটিএর একটি বিজ্ঞাপন কমিটি রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন পর্যালোচনা করে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইনি জটিলতার কারণে ঠিক কোন কোন বিজ্ঞাপন তারা বাতিল করতে পারবে, সেই ক্ষেত্রে সংস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি আরো প্রকাশ করেন, এমটিএ এর আগে মিউজিয়াম অফ সেক্স কর্তৃপক্ষকে তাদের বিজ্ঞাপন কিছুটা পরিবর্তন করার জন্য চাপ দিয়েছিল।
লিবার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তারা বিজ্ঞাপনে কেবল ‘মিউজিয়াম অফ সেক্স’ লিখে রাখত। আমরা জোরাজুরি করি যেন তারা অন্তত তাদের ঠিকানাটি যুক্ত করে, যাতে মানুষ মূল বার্তাটি নিয়ে কোনো ভুল না বোঝে।”
মিউজিয়াম অফ সেক্স-এর শাখা নিউ ইয়র্ক সিটি ছাড়াও আরো কয়েকটি নগরীতে রয়েছে। এই বিতর্ক নিয়ে মন্তব্যের জন্য সিবিএস নিউজ নিউ ইয়র্ক-এর পক্ষ থেকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আপাতত বিজ্ঞাপনগুলো এমটিএর বাসগুলোতে বহাল থাকছে, আর সেই সাথে জারি রইল এই বিতর্কও, যে ঠিক কোথায় গিয়ে বাকস্বাধীনতার শেষ এবং জনসংবেদনশীলতার শুরু।

















