ছবি: সংগৃহীত
সবাইকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে কেন? সবাই তো সব বিষয়ে জানিনা, জানবোও না, এটাই স্বাভাবিক। সবারই সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই সবার জ্ঞানও এক রকম হয় না, এটাই সত্য। আর জ্ঞান অর্জন করতে হলে পড়তে হয়, জানার চেষ্টা থাকতে হয়। শিক্ষাটা কিন্তু চট করে আসেনা বা শেষ হয় না। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ক্রমে ক্রমে একজন মানুষ জ্ঞানী হয়ে ওঠেন, রাতারাতি নয়। এক্ষেত্রে জোরাজুরিও চলে না।
এমন অনেককে দেখবেন, যে কোন বিষয়ে হয়তো সে তেমন কিছু জানে না কিন্তু তার দুটি কথা যেন বলতেই হবে! আরো কেউ আছেন যাদের কথার তোড়ে কোন আসরে অন্যরা কিছু বলার সুযোগই পায় না।
কথায় আছে তো ‘শূন্য কলসি বাজে বেশি‘, তাই দেখবেন মূর্খরা বকেও বেশি। ওনাদের বকবকানিতে যেকোনো পরিবেশ নিমিষেই দূষিত হয়ে যায়। তারপরও এরা থামবে না। তর্কে জেতার প্রবণতাও বেশি এদের। অপদার্থ যাদেরকে বলে আর কি! ভাইরে, যে জানে তাকে কথা বলতে দিন, তার কথাগুলো শুনুন, উপকার হবে। নিজেকে থামানো শিখুন। আর যা জানেন না তা নিয়ে গাল গল্প করা বন্ধ করুন। আপনি ভাবছেন যে, কিছু একটা বলে অন্যের কাছে নিজেকে বেশ জ্ঞানী প্রমাণ করতে পেরেছেন। কিন্তু আপনি ভুল কিছু বলে কখন যে একটা গাধা বনে গেলেন, নিজেও কিন্তু টের পেলেন না। আর কিছু না জেনে কোন বিষয়ে তরপানো মিথ্যাচার এবং অপরাধও। এসব বিষয়াদি নিজেকে, অন্য কাউকে বা সমাজকে ইতিবাচক কিছু দেয় না। বরং ভুল তথ্যের কারণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বা কারো ক্ষতি হয়ে যায়।
তাই আসুন কিছু একটা বলার আগে দশবার ভাবি। না জানলে কিছু না বলি বা স্বীকার করি যে আমি জানিনা। তাতে নিজের কোনই ক্ষতি হয় না বরং অন্যদের উপকার হয় এবং নিজেরও হয়। আমরা সবাই তো সব কিছু জানি না। আর মানুষে মানুষে মেধার বা শিক্ষার ভিন্নতা রয়েছে। সে কারণে আমরা সবাই সবজান্তা নই। এই সত্যটি মেনে চললেই আমাদের ভুলভাল আচরণ কমবে এবং আমরা অনেক পরিশীলিত তথা মার্জিত হতে পারবো।
লেখক: অভিনেতা।

















