ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে শিশুদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত আইনের জন্য নিউ ইয়র্ক স্টেট জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে বলে ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ‘দি অ্যানশাস জেনারেশন মুভমেন্ট’ তাদের ‘দ্য চাইল্ডহুড ইনডেক্স’ নামক এক নতুন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করেছে। অনলাইনে এবং অফলাইনে শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর শৈশব নিশ্চিতে কোন রাজ্যের প্রযুক্তি আইন ও নীতি কতটা সহায়ক, তার
ওপর ভিত্তি করে এই প্রথম এ ধরনের কোনো র্যাঙ্কিং করা হলো।
গভর্নর হোকুলের নেতৃত্বে অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তায় গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সেফ ফর কিডস অ্যাক্ট’, ‘নিউ ইয়র্ক চাইল্ড ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট’, সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ার্নিং লেবেল আইন, এআই কম্প্যানিয়ন-এর ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিঘœহীন শিক্ষা এবং ২০২৭ অর্থবছরের নির্বাহী বাজেটের অংশ হিসেবে তার ‘সেফ বাই ডিজাইন’ প্রস্তাবনা।
গভর্নর হোকুল বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের প্রথম মা গভর্নর হিসেবে আমি গর্বিত যে, অনলাইনে শিশুদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে আমরা পুরো দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আসক্তিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য সংগ্রহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্কুলে সেলফোন ব্যবহারের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, আমরা সব সময় শিশুদের প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের এই অগ্রগামী নীতিগুলো শিশুদের শিকারি, প্রতারক এবং ক্ষতিকর অ্যালগরিদম থেকে রক্ষা নিশ্চিত করে একটি স্বর্ণমান তৈরি করেছে, যা অন্য রাজ্যগুলো অনুসরণ করতে পারে। আমরা এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব যাতে প্রতিটি শিশু বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।’
‘দি অ্যানশাস জেনারেশন’-এর লেখক জোনাথন হাইট বলেন, ‘মূলত এই আন্দোলনটি শৈশবকে ফিরিয়ে আনার লড়াই। দ্য চাইল্ডহুড ইনডেক্স একটি সাধারণ প্রশ্ন করার মাধ্যমে সেই গুরুত্বটিই তুলে ধরছে : আমরা কি এমন পরিবেশ তৈরি করছি যেখানে শিশুরা বিকশিত হতে পারে?’
সংস্থাটির পলিসি ডিরেক্টর কেসি মক বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক জাতীয়ভাবে নেতৃত্বে রয়েছে কারণ এই স্টেটটি প্রয়োজনীয় কাজগুলো সবার আগে করেছে। তারা জোরালোভাবে বলেছে যে স্কুলের সময়টি শেখার জন্য, স্ক্রলিং করার জন্য নয় এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের শোষণ করার নকশার জন্য দায়বদ্ধ করতে শুরু করেছে। গভর্নর হোকুলের মতো নেতারা প্রতিটি পরিবারের সমস্যাটি বুঝতে পেরেছেন এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামেননি।’
স্টেট সিনেটর সামরা ব্রুক বলেন, ‘নিউ ইয়র্কে যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্য এখনও একটি সংকট। আমি গভর্নর হোকুলকে সাধুবাদ জানাই শিক্ষার্থীদের প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচাতে, বিঘœহীন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে এবং আসক্তিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া ফিড নিয়ন্ত্রণে তার নেতৃত্বের জন্য।’
অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভ ওটিস এবং নিলি রোজিক-ও এই স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই র্যাঙ্কিং প্রমাণ করে যে নিউ ইয়র্ক প্রযুক্তি শিল্পের মুনাফার চেয়ে শিশুদের কল্যাণকে এগিয়ে রেখেছে। তারা প্রতিশ্রুতিদেন, ডিজিটাল জগতের পরিবর্তনশীল হুমকির মোকাবিলায় নিউ ইয়র্ক ভবিষ্যতেও পরিবার ও শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে।

















