ছবি: সংগৃহীত
গাড়ি নিলামের মাধ্যমে পাওয়া উদ্বৃত্ত অর্থ মালিককে না জানিয়েই সরকারের কোষাগারে কয়েক মিলিয়ন ডলার জমা করার অনুমতি দিয়েছিল কয়েক দশকের পুরনো একটি আইন। সম্প্রতি রাজ্য বিধায়করা সেই আইন পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন বিল পেশ করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যুরিয়েটা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর কেলি সেয়ার্তো এ বিলটি সরাসরি ক্যালম্যাটার্স-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ফাঁস হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত প্রায় ৫,৩০০টি গাড়ি নিলামে বিক্রি করে ডিএমভি ৮০ লাখ ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করেছে। অথচ টো করা গাড়িগুলো যে বিক্রির পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা হয়েছে, তা মালিকদের জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা সংস্থাটির ছিল না।
সিনেট ট্রান্সপোর্টেশন কমিটির জন্য লিখিত বিলের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘নিবন্ধটি এই উদ্বেগকে সামনে এনেছে যে, লিয়েন সেলের পর অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অস্পষ্ট এবং অনেক মানুষ জানেনই না যে তাদের গাড়ি বিক্রি করে কোনো বাড়তি টাকা পাওয়া গেছে কিনা।’
বর্তমান আইন অনুযায়ী, জনগণকে তাদের পাওনা টাকা দাবি করার কথা জানাতে ডিএমভি বাধ্য নয়। আর তিন বছর পর মালিকরা সেই টাকার ওপর তাদের অধিকার হারান।
গাড়ির মালিক যদি বিল পরিশোধ না করেন বা গাড়ি নিয়ে না যান, তবে স্টোরেজ ইয়ার্ড, টোয়িং কোম্পানি এবং মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই গাড়ি নিলাম করতে পারে, যাকে ‘লিয়েন সেল’ বলা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায়, নিলামের উদ্বৃত্ত অর্থ প্রাপ্তির ১৪ দিনের মধ্যে ডিএমভি-কে গাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠাতে হবে। সেই নোটিশে টাকার পরিমাণ এবং মালিক কীভাবে তা দাবি করতে পারবেন, তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। এছাড়া নোটিশটি অবশ্যই রিটার্ন রিসিপ্টসহ রেজিস্টার্ড বা সার্টিফাইড মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
সিনেটর সেয়ার্তো বিলের বিশ্লেষণে বলেছেন, এটি ক্যালিফোর্নিয়ার লিয়েন সেল প্রক্রিয়ায় ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষার একটি ‘গুরুতর শূন্যতা’ পূরণ করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, রাষ্ট্রের হাতে মালিকের পাওনা কোনো উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলে তা যেন মালিক জানতে পারেন।
বিলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়নি।
গাড়ি টো করা এবং আনুষঙ্গিক ফি অনেক সময় ঋণের ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার মতো কারণে পুলিশ আপনার গাড়ি টো করতে পারে। কিন্তু ট্রাফিক বা পার্কিং টিকেটের জরিমানা বকেয়া থাকার কারণে আপনি যদি রেজিস্ট্রেশন রিনিউ করতে না পারেন, তবে গাড়িটি ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। যারা এই উচ্চ অঙ্কের জরিমানা দিতে পারেন না, তারা প্রায়ই গাড়িটি স্টোরেজ ইয়ার্ডে ফেলে রাখেন। তখন ইয়ার্ডগুলো নিজেদের খরচ উসুল করতে লিয়েন সেলের মাধ্যমে গাড়িটি বিক্রি করে দেয়।
ক্যালম্যাটার্স-এর প্রতিবেদনের আগে, মানুষের জন্য এটা জানার বা পাওনা টাকা দাবি করার কোনো সহজ উপায় ছিল না। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর, ডিএমভি ক্যালম্যাটার্স-এর একটি টুল বা পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের ওয়েবসাইটে পাওনা দাবি করার ব্যবস্থা চালু করেছে। বর্তমানে ডিএমভির ওয়েবসাইটে এই সুবিধা এবং টাকা দাবি করার নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি ‘সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন’ অংশ যুক্ত করা হয়েছে।
বিলটি নিয়ে সোমবার সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

















