ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির ডেলিভারি অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নেমেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। টিপস ও মজুরি নিয়ে ডেলিভারি কর্মীদের ঠকানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিটির এই অবস্থান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি নতুন মামলার ঘোষণা দিয়েছে সিটি প্রশাসন।
অন্যদিকে সিটি কর্তৃপক্ষ আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে ডেলিভারি অ্যাপগুলোকে কর্মীদের মজুরি ২১.৪৪ (টিপস বাদে) বৃদ্ধি কার্যকর করতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন শ্রমিক সুরক্ষা আইন ঘোষণা করেছে, যা ২৬ জানুয়ারি থেকে সিটিতে কার্যকর হবে।
গত ১৫ জানুয়ারি পাঁচটি বরোর ডেলিভারি কর্মীরা ব্রুকলিনে ওয়ার্কার্স জাস্টিস প্রজেক্টের কার্যালয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৮০ হাজার ডেলিভারি কর্মীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।
সিটি কর্তৃপক্ষ ‘মোটোক্লিক’ নামের একটি ডেলিভারি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের টিপস চুরি, মজুরি আটকে রাখা এবং ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘন করেছে।
মামলার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইকোনোমিক জাস্টিসের ডেপুটি মেয়র জুলি সু, ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের (উঈডচ) কমিশনার স্যাম লেভিন, ওয়ার্কার্স জাস্টিস প্রজেক্ট এবং লস ডেলিভারিস্তাস ইউনিডোস-এর প্রতিনিধিরা।
মেয়র মামদানি বলেন, ‘স্যাম লেভিনের নেতৃত্বে আমাদের ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ এই সপ্তাহে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।’
সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, কিছু ডেলিভারি কর্মীর গড় টিপস তিন ডলারের বেশি থেকে কমে এক ডলারের নিচে নেমে এসেছে। উবার ইটস ও ডোরড্যাশের মতো বড় কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে কর্মীদের প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি টিপস থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মেয়র মামদানি বড় অ্যাপ কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা নীরবে টিপিং সিস্টেম পরিবর্তন করে কর্মীদের আয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
সিটি প্রশাসনের অভিযোগ, মোটোক্লিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এই তদন্তের সূচনা হয়েছিল ২০টিরও বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে।
ডব্লিউএবিসি পরিবেশিত খবরে মেয়র মামদানি বলেন, ‘এই পাঁচটি বরোজুড়ে কর্মীদের প্রতি কর্পোরেটদের দুর্ব্যবহার আমরা আর সহ্য করবো না।’
তিনি জানান, এ কারণে ৬০টি ডেলিভারি অ্যাপ কোম্পানিকে সতর্কীকরণ চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন শ্রমিক সুরক্ষা আইন আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো হলো : ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ২১.৪৪ ডলার (টিপস বাদে), টিপসের সম্পূর্ণ অর্থ শ্রমিকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা, সময়মতো বেতন ও পে-স্টেটমেন্ট প্রদান, আরো নিরাপদ ডেলিভারি বাইক নিশ্চিত করা।
ডিসিডব্লিউপি কমিশনার স্যামুয়েল এ.এ. লেভিন বলেন, এই অভিযান কোনো একটি কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ নয়। ‘আমরা শুধু মোটোক্লিকের বিরুদ্ধে মামলা করছি না, আমরা তাদের সিইওর বিরুদ্ধেও মামলা করছিÑ যাতে শ্রমিকরা তাদের পূর্ণ বেতন ও ক্ষতিপূরণ পান।’
একজন ডেলিভারি কর্মী আলেহান্দ্রো বলেন, ‘আমরা চাই এই কাজটি একটি প্রকৃত পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাক- যেখানে ন্যায্য বেতন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা থাকবে, যাতে আমরা আমাদের পরিবারকে ভরণপোষণ দিতে পারি।

















