রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কে বিএনপির স্মরণ, শোক সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল 

‘খালেদা জিয়া নেতৃত্বগুণে দলীয় নেত্রী থেকে  জাতীয় নেত্রীতে পরিণত হ

নিউইয়র্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

‘খালেদা জিয়া নেতৃত্বগুণে দলীয় নেত্রী থেকে  জাতীয় নেত্রীতে পরিণত হ

ছবি - নবযুগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দলের ভারপ্রাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় নিউইয়র্কে স্মরণ সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে গত ৫ জানুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় সিটির উডসাইডের একটি পার্টি হলে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজ নেতৃত্বগুণে দলীয় নেত্রী থেকে জাতীয় নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তার প্রমান মিলেছে তাঁর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ। তিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন দেশ প্রেমিক, আপোষহীন নেত্রী। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর দেশ বিরোধী সকল অন্যায়, অবিচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছিলেন সংগ্রামী প্রতীক। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে চিরদিন মনে রাখবে। খবর ইউএনএ’র। 
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট এবং প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং মূলধারার রাজনীতিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদল। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বেলাল মসজিদের ইমাম ড. মওলানা আনসারুল করীম আল আজহারী। এসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনা করা হয়। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয় তারেক রহমানের।  
অনুষ্ঠানের শুরুতে  স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সবুজ। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মধ্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক ড. শওকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, আজহারুল হক মিলন ও খন্দকার ফরহাদ, সাবেক ছাত্রনেতা আলী ইমাম শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী আজম, বিএনপি নেতা বাসিত রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেস্তাক আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব জাকির হাওলাদার, মহিলা দল নেত্রী সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, বিএনপি নেতা ইমরান শাহ রন, জাফর তালুকদার, মোহাম্মদ মৃধা জসিম, খলকুর রহমান, আকিকুল ফারুক, জাহিদ ইসলাম সুমন, নূর আমীন, তানভীর করিম, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, শাহবাজ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক গোলাম এন হায়দার মুকুট প্রমুখ। 
অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মাহফুজুল মাওলা নান্ন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দুল হক, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার এম এ খালেক, মওলানা এ করীম, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ও দলীয় নেতা-কর্মী, শুভানুধ্যায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 
অনুষ্ঠানে আব্দুল লতিফ স¤্রাট তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বপালনকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দলীয় কর্মকান্ডের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা একজন সত্যিকারের নেতা হারিয়েছেন। এ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তিনি আজীবন দেশ, দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ফলে দেশ-বিদেশে সম্মানিতও হয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকবেন দেশের মানুষের হৃদয়ে। তাঁর জানাজা নামাজে এতো বিপুল মানুষের সমাবেশ-কে বিরল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে স¤্রাট বলেন, এমন জানাজা পৃথিবীতে এটাই প্রথম। তিনি সারা জীবন নির্যাতিত ছিলেন, তাই তার মুত্যুকে আমরা শহীদি মৃত্যু বলতে পারি। তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর হলে বেগম খালেদা জিয়ার আতœা শান্তি পাবে। এমন নেত্রীর রাজনীতি করতে পারায় নিজেকে ধন্য ও গর্বিত মনে করেন আব্দুল লতিফ স¤্রাট।
আখতার হোসেন বাদল বলেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সফলতার সাথে নেতৃত্ব নেয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণের কাছে ‘আপোষহীন’ নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন।  ৯১-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার বেগম জিয়া নিউইয়র্ক সফরকালে তার কাছে নিউইয়র্কে সোনালী এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। ম্যাডাম সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে আমাদের সেই দাবী পূরণ হয়। শুধু তাই নয়, প্রবাসীদের প্রত্যাশা ‘ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইটও চালু হয়েছিল আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম আমলেই। অর্থাৎ বেগম জিয়া শুধু আপসহীন নেত্রীই ছিলেন না, ছিলেন প্রবাসীবান্ধব নেত্রী। তার মৃত্যুতে দল, দেশ, জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো। 
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী মৃতুর পর যে সম্মান পেয়েছেন তার ইতিহাস হয়ে থাকবে। তাঁর ত্যাগ দেশ-জাতি মূল্যায়ন করেছে। তিনি তাঁর নেতৃত্ব আর যোগ্যতা দিয়ে আপোষহীন জাতীয় নেতায় টপরিণত হন। বেগম জিয়ার অসমাপ্ত কাজ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে গিয়াস উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
 

শেয়ার করুন: