বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

বিশেষ সম্পাদকীয় শুভ নববর্ষ ২০২৬ কল্যাণকর এবং  শুভ হোক 

শাহাব উদ্দিন সাগর

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ২ জানুয়ারি ২০২৬

বিশেষ সম্পাদকীয় শুভ নববর্ষ ২০২৬ কল্যাণকর এবং  শুভ হোক 

ছবি: সংগৃহীত

সবাইকে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরটি শুভ হোক, কল্যাণকর হোক এই আশা প্রত্যেক মানুষই করবে। আমরাও আমাদের পাঠক, গুণগ্রাহী, বিজ্ঞাপনদাতা, লেখকসহ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবার জীবনে নতুন বছর শান্তির পরশ বুলিয়ে দিক।

বিশ্ব এবং বাংলাদেশের জন্য গত বছরটি ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ একটি বছর। পশ্চিমা দেশগুলোতে অভিবাসী বিতাড়ন ছিল আলোচনায়। রাশিয়া-ইউক্রেনযুদ্ধের দামামার খবর কিছুটা হলেও গণমাধ্যমে ম্লান ছিল। কিন্তু তুমোল আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন উত্তাপ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। এই নগর রেকর্ড ভঙ্গ করে মেয়র হিসেবে পেয়েছে প্রথম মুসলিম, প্রথম অভিবাসী ও প্রথম ক্রটিক সোশ্যালিস্ট ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানিকে। আলোচনা ছিল বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারও। বিএনপি চেয়ারপাসনের মৃত্যু, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ওসমান হাদির মৃত্যু পৃথিবীব্যাপী আলোচিত হয়েছে। গত বছরের মতো এত বেশি রাজনৈতিক ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির গন্তব্য কোন দিকে, সে প্রশ্নটিও আড্ডায়, রকে-রেস্তোরাঁয়, পরিবারে, স্বজন সমাবেশে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে বৃহৎ পরিসরেও। একটি সফল নির্বাচন এই প্রশ্নটির কতটা মীমাংসা করতে পারে, তা এখনই বলে দেওয়া যায় না। তবে এ কথা ঠিক, দেশ এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনটি কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু রাজনৈতিক স্বাস্থ্যের ওপর দেশের মানুষের ভালো থাকা-মন্দ থাকা নির্ভর করে না। কেমন আছে কৃষি, কেমন আছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কেমন আছে শিক্ষা, কেমন আছে খেলাধুলা, কেমন আছে দেশের নারীরা, কেমন আছে সামাজিক সম্পর্ক এই ধরনের অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা করলে দেশের প্রকৃত স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়গুলো জনগণকে স্বস্তি দিতে পারছে কি না, সেটা জনগণ নিজের মতো করেই অনুধাবন করছে। তাই, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি-শিক্ষা মিলে দেশের যে পূর্ণাঙ্গ একটি চিত্র ফুটে ওঠার কথা, এ বছর সে চিত্রটির অপেক্ষায় থাকবে দেশের অগণন জনগণ। প্রত্যেকেরই চাওয়া থাকবে হানাহানি, ঘৃণা, পারস্পরিক অবিশ্বাসকে হারিয়ে দিয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
নতুন বছরে রাজনৈতিক পরিপক্বতা, বিচক্ষণতার প্রতি আস্থা আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে, কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে সেই কথার অভিঘাত কী হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সবার কাছে আমরা কোন পরিচয়ে পরিচিত হচ্ছি, সে কথা ভাবা প্রয়োজন। হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত এ সময় বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব যাদের ওপর বর্তাবে, তাদের উচিত হবে বুঝে-শুনে দেশের কল্যাণের স্বার্থে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২০২৬ সালে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক। পৃথিবীর সর্বত্রই আধিপত্য নিয়ে যে সূক্ষ্ম লড়াই চলছে, তা কারও নজর এড়াচ্ছে না। সর্বত্রই উগ্রতা এসে ঢেকে দিতে চাইছে মানবতাবাদকে। ধর্মে-ধর্মে, জাতিতে-জাতিতে, সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে বিভেদ এসে বিপর্যপ্ত করে তুলেছে পৃথিবী। এই উগ্রতা ও আধিপত্যবাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য শান্তিকামী মানুষের ঐক্যের বিশেষ প্রয়োজন। ২০২৬ সাল সারা বিশ্বে শান্তিকামী মানুষেরা এক হয়ে উগ্রতার হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর শপথ নিক।
দমন-নিপীড়ন চালানো হলে ফুঁসে ওঠে মানুষ। জোর করে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তার ফল যে ভালো হয় না, জনগণই যে তার মোক্ষম জবাব দেয়, তার উদাহরণ নিকট অতীতে আছে। তাই জনগণের জন্যই পরিচালিত হোক এ দেশের রাজনীতি, জনগণকে ভুল বুঝিয়ে দেশকে অনিশ্চয়তার মধ্যে না ফেলা হোক। শুভ নববর্ষ।
 

শেয়ার করুন: