শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

ইজতেমার ময়দান থেকে রাজনীতির মাঠ

মেসবাহ শিমুল, ঢাকা অফিস 

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

ইজতেমার ময়দান থেকে রাজনীতির মাঠ

ঢাকার চিঠির লেখক: মেসবাহ শিমুল

শীত যখন পূর্ণ যৌবনে তখন রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বসেছে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর মিলনমেলা। ধর্মীয় তাৎপর্য যাই হোক প্রতি বছর একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই ময়দানে একত্রিত হয়ে ধর্মীয় বয়ানসহ নানা কাজে লিপ্ত থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। যাকে বিশ্ববাসী জানে ইজতেমা হিসেবে। বৃহস্পতিবার টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান যখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ তখন ঢাকার রাজপথে তীব্র যানজট। তুরাগের যৌবন নেই। তাই স্রোত বয় না। কিন্তু তুরাগ তীরের এই ইজতেমা ময়দানের জন¯্রােত যেন মিশেছে ঢাকার সড়কে সড়কে। প্রতিবছর অবশ্য এমনই চিত্র দেখা যায় এইদিনে। 

এই যানজটের মধ্যেই রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কাওরান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে কয়েকশ প্রতিবাদী মানুষ। তাদের হাতে ব্যানার। মুখে প্রতিবাদী স্লোগান। এক প্রকার জটলা সেখানে। চারপাশে গাড়ি-ঘোড়ার হর্ণ, কর্মব্যস্ত মানুষের কৌতুহল কিংবা খোদ প্রতিবাদকর্মীদের প্রতি হিংসা। সব মিলেমিশে একাকার। এইসব প্রতিবাদীরা রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী। যে যার কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের শীর্ষ কর্তার সম্মানহানীর। এই সম্মানহানী একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশের কারনে ঘটেছে। সেই সংবাদে বলা হয়েছে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ টি বাড়ি। যদিও কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এই খবরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক ঝাঁকি লেগেছে। নড়েচড়ে বসেছে রাষ্ট্র, সরকার, আদালত কিংবা চায়ের দোকান। 

এইসব প্রতিবাদীরা উপরের নির্দেশে রাস্তায় নেমে তাদের স্যারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দাবি তাদের স্যার একজন নিপাট ভদ্র লোক, ফেরেস্তাতুল্য ভালো মানুষ, জীবনে যিনি একটি টাকাও হারাম খাননি। তার একার পক্ষে কি করে ১৪ টি বাড়ি বানানো সম্ভব? তাও মার্কিন মুলুকে! আসলেই যৌক্তিক এটা প্রশ্ন। 

ওয়াসার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যে বহুবহু খবর প্রকাশিত হয়েছে। পানি বঞ্চিত ঢাকার নাগরিকরা থালা-বাটি-জগ-মগ নিয়ে মিছিল করে এই এমডির পদত্যাগ দাবি করেছেন। ব্যাপক হট্টগোল করেছেন কিন্তু এতোটা গায়ে লাগেনি। যতোটা বাড়ির খবরে সবার গায়ে লাগলো। তাহলে কি সত্যিই বাড়িগুলো তার একার নয়? হতেও পারে। তবে এটিও হতে পারে ওয়াসার সবাই কমবেশি দুর্নীতিবাজ। তাই একের পাশে অন্যের অবস্থান খুবই স্বাভাবিক এবং মানবিক কাজ। এই মানবিক কাজে অংশ নিতেই তাই ঢাকার যানজটকে কিছুটা তাতিয়ে দিয়েছেন তারা। 

সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্টেজ ভেঙ্গে পড়ে গিয়ে ভাইরাল হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্রলীগের কাছে আহ্বান জানানোর আগেই তার এই ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় দেশবাসী হতবাক। স্মার্ট ফোন আসার একযুগ পরও যে বাংলাদেশ স্মার্ট হতে পারেনি এজন্যও অনেকের বিস্ময়। তাহলে এতোদিনের এই আনস্মার্ট জীবনের আর কী অর্জণ থাকলো। 

ওবায়দুল কাদেরের এই ভাইরাল অবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার আরেকটি খবর এলো। তিনি রাষ্ট্রপতি হতে চান না। কেন হতে চান না সেটিও তিনি বেশ ভালো ভাবে অকপটে বলেছেন। কেননা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা নেই। হয়তো এটি তার আত্মপোলব্ধি। আপনাকে আপনার চেয়ে আর কে ভালো চিনিবে? আমাদের সবার মধ্যেই এমন আত্মপোলব্ধি আসা প্রয়োজন। তাহলে অহেতুক অনেক কিছু থেকে বেঁচে থাকা যায়। যেমনটি সেটি হতে পারে ইজতেমার ময়দান থেকে রাজনীতির ময়দানে। আমি কে, কতটুকু আমার যোগ্যতা কিংবা আমি কিসের যোগ্য সেটি বুঝতে পারলে জাতি হিসেবে আমাদেরই অর্জন। এর নামই স্মার্টনেস। এটি কোনো স্লোগানের বিষয় নয়। আত্মবোধের বিষয়। 
 

শেয়ার করুন: