মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

ঢাকার বাতাসে আইসিসি বিদ্বেষের গন্ধ 

মেসবাহ শিমুল, ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ১১ নভেম্বর ২০২২

ঢাকার বাতাসে আইসিসি বিদ্বেষের গন্ধ 

ঢাকার চিঠির লেখক: মেসবাহ শিমুল

বৃহস্পতিবারের দিনটা রাজধানীবাসীর কোনো রকম কেটে যায়। শহরে কর্মমুখী মানুষের একই সঙ্গে স্বস্তি আর তাড়াহুড়োর দিন। উইকেন্ডকে সামনে রেখে অফিসের কাজ গুছিয়ে সকাল সকাল কেটে পড়ার একটা বিষয় থাকে। সে হিসেবে যানজটও অনেকটা আগে ভাগেই শুরু হয়। মানুষের মনে-মুখে বিরক্তির ছাপ থাকে স্পস্টতই। তবে গতকালকের দিনটি অনেকটা তার বিপরীত ছিলো। সেটি কেন হলো সে বিষয়টিই এখন বলবো। 

ক্রিকেটে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে গেল কয়েকদিন ধরে বেশ সমালোচনা চলছিলো। ক্রিকেট মাফিয়া ভারতের হয়ে আইসিসি অদৃশ্য লড়াই করে এমন কথা প্রায়ই সবাই বলে। কিন্তু সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে সেটি আবারো সামনে এসেছে। তাইতো আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলো দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত। আর আইসিসির ওপর এই ক্ষোভ প্রকারন্তরে ভারতের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ। বলতে পারেন এক ধরণের বিদ্বেষ। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধু বন্ধু খেলায় দিন দিন যে দেশটি শত্রুতে পরিণত হয়ে পড়ছে তার নাম ভারত। রাজনীতি, ধর্ম থেকে শুরু কওে ক্রিকেট সবখানেই ভারত এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিপক্ষ। তাই এই প্রতিপক্ষ যখন আইসিসির বন্ধু হয়ে যায় তখন আইসিসিও হয়ে যায় আমাদের শত্রু। তার বাস্তব প্রমাণ পেলাম বৃহস্পতিবারের ভারত-ইল্যাংন্ড ম্যাচে। সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের ১০ উইকেটের এ হার এখন আন্তর্জাতিক লজ্জার প্রতীক হয়ে উঠলো। এই লজ্জা লুকানোর কোনো সুযোগ ভারতের নেই। 

ম্যাচের পুরোটা সময়ই ভারতের প্রতিপক্ষ ছিলো দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। এই নিরঙ্কুশ বিরোধীতা এর আগে কখনো চোখে পড়েছে বলে মনে পড়ে না। মনে হয়েছে ইংল্যান্ড নয় ভারত আসলে হেরেছে বাংলাদেশের সঙ্গেই। অফিস-আদালত, ক্লাব কিংবা বাসাবাড়িতে টিভি সেটের সামনে বসে যারা খেলা দেখেছেন তাদের মুখে একটাই কথা জোচ্চুরি করে ভারতকে সেমিতে এনে কী লাভ হলো আইসিসির? লজ্জার হাত থেকে তো রেহাই হলো না। আসলেই তাই ক্রিকেটের মোগলপণা আর বোধ হয় থাকলো না ভারতের। বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপে সেটাই বোঝা গেলো। 

ফাইনালটা এবার হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই দেশে পাকিস্তানের পক্ষে একটি বিশাল দর্শক শ্রেণি রয়েছে। যারা ভারতের বিদায়ে খুশি। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসি-ভারতের যৌথ গাদ্দারিতে ভয়ানকভাবে ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ এখন প্রশমিত হলো। ভারতের বিদায়ে অনেকটা স্বস্তির বাতাস বইলো। সেই সঙ্গে আইসিসির প্রতি ক্ষোভের বহি:প্রকাশও দেখলাম। মনে হলো শীতের প্রাক্কালে ধুলো মাখা হালকা কুয়াশায় ভারতের মুখ মলিন হয়ে আছে। তবে তাদের এই মলিন মুখই আমাদের মুখগুলোকে হাসিমাখা করেছে।

ক্রিকেটের বাইরেও ভারত নানা কারনে আমাদের দেশে অ-জনপ্রিয়। বিশেষ করে দেশের রাজনীতিতে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের কারনে এদেশের বহু মানুষ ক্ষুব্ধ। তাইতো ভারত হারলে সেসব বিক্ষুব্ধ লোকগুলো জিতে যায়। যেমনটি এর আগেও দেখেছি। বৃহস্পতিবারের ক্রিকেট ম্যাচটি ছিলো সেই দেখারই যেন পুনরাবৃত্তি। 

দেশে সাধারণ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে মাঠে গড়িয়েছে রাজনীতি। বিএনপি-আওয়ামী লীগ তাদের দল গুছিয়ে মাঠে শক্তি প্রদর্শণের মহড়া শুরু করেছে। সম্প্রতি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপি গণসমাবেশ করেছে। এইসব সমাবেশে নানা প্রতিকূলতার পরও লাখ লাখ লোক সমাগম ঘটছে। এতে সরকারের মধ্যেও এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া দর আর রিজার্ভের পতন ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতায় কাবু সরকার এখন প্রহর গুনছে সুদিন ফেরার। তবে সুদিন কবে নাগাদ কিভাবে ফিরবে তার কোনো স্পস্ট লক্ষণ নেই। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচনের আগে ভারত বিদ্বেষের মাত্রা বাড়তে থাকলে সেটি অস্বস্তি তৈরি করবে সরকারের মধ্যেও। যেহেতু সরকার ক্ষমতায় থেকেই দ্বাদশ নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় তাই এই অস্বস্তি তাদের জন্য সুখকর হবে না।
 

শেয়ার করুন: