শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

মামদানির বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছেন অনেকে

নিউইয়র্ক সিটিতে বস্তি  উচ্ছেদে দায়সারা চেষ্টা!

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ১৭ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটিতে বস্তি  উচ্ছেদে দায়সারা চেষ্টা!

ছবি: সংগৃহীত

‘ইনট্রেপিড মিউজিয়াম’-এর কাছে গড়ে ওঠা আইন অমান্যকারী এক ঝুপড়ি বস্তিতে অবশেষে দেখা মিলেছে ‘বিগ অ্যাপল’-এর সমাজকর্মীদের। তবে এই অভিযান পশ্চিম প্রান্তকে (ওয়েস্ট সাইড) বস্তিতে রূপ দেওয়া চলমান গৃহহীন শিবিরের ওপর তেমন কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দিনের পর দিন ক্ষোভ প্রকাশ এবং মিডিয়ায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন সত্ত্বেও, সেই জনপ্রিয় ভাসমান মিউজিয়ামের ছায়াতলে থাকা বেশির ভাগ তাঁবু এবং অস্থায়ী আশ্রয়স্থলগুলো আগের মতোই বহাল তবিয়তে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মারাত্মক বিরক্ত করছে। সিটি কর্পোরেশনের সমাজকর্মীরা সেখানে সামান্য কিছু ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করেননি।
ওয়েস্ট ৪৫ নম্বর স্ট্রিটের একটি ডাস্টবিন নোংরা শিবিরের অবশিষ্টাংশে ভরে আছে, যেখানে অ্যামাজনের ব্যাগে ভরা সব আজেবাজে জিনিসের পাশাপাশি সুচের ব্যাগ, সেক্স টয়, সিগারেটের ফিল্টার এবং খালি খাবারের প্যাকেট পড়ে রয়েছে।
ডাস্টবিনের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা কর্মী, যিনি নিজেকে ‘জো দ্য ডগ ম্যান’ নামে পরিচয় দেন, মিডিয়াকে বলেন, ‘আমি এদের এখান থেকে তাড়াতে চাই।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় না পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানে নতুন সব অ্যাপার্টমেন্ট ভবন উঠছে, মানুষ এই এলাকায় থাকার জন্য ভালো অঙ্কের ভাড়া গুনছে, অথচ এখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। মাদক, পতিতাবৃত্তি থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই, যা এখানে হচ্ছে না। তাদের উচিত এগুলো পরিষ্কার করা।’
কাছাকাছি একটি ডেলির (খাবারের দোকান) ব্যবস্থাপক চার্লি বলেন, মেয়র জোহরান মামদানিকে এবার শক্ত পদক্ষেপ নিতেই হবে।
সূত্র জানায়, মেয়র মামদানি এই দৃষ্টিকটু তাঁবু শহর নিয়ে বেশ ‘আতঙ্কিত’ হয়ে পড়েছেন এবং সিটি হলের জন্য চরম লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে ‘নড়চড়ে বসেছেন।’
তবে জনসমক্ষে মেয়রের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে তিনি বিষয়টিকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। সমালোচকরা বলছেন, মেয়র মামদানি নিজেই প্রথম দিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দিয়েছেন।
গৃহহীন সংকট মোকাবিলায় মেয়রের ‘হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির কারণে, সমাজকর্মী এবং গৃহহীন সেবা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক পুলিশ এই গৃহহীন শিবিরগুলো ভেঙে দিতে পারে না। এমনকি এই নীতির অধীনে পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে টানা সাত দিন অপেক্ষা করতে হয়।
এদিকে, এনওয়াইপিডির সাবেক কমিশনার উইলিয়াম ব্রাটন চলতি সপ্তাহে দ্য পোস্টকে বলেন, এই অনিয়ন্ত্রিত শিবিরটি শহরের সেই পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যখন পুরো শহর যাযাবরদের দখলে চলে গিয়েছিল।
ওয়েস্ট সাইডের এই এলাকাটি মূলত একটি বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা, যার এক প্রান্তে ৩৪ নম্বর স্ট্রিটে রয়েছে জ্যাকব জাভিটস সেন্টার এবং অন্য প্রান্তে ৪৬ নম্বর স্ট্রিটে রয়েছে ইনট্রেপিড মিউজিয়াম।
 

শেয়ার করুন: