শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কের গভর্নর পদে এগিয়ে ক্যাথি  হোকুল

নবযুগ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২৪, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিউইয়র্কের গভর্নর পদে এগিয়ে ক্যাথি  হোকুল

ছবি - নবযুগ

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আসন্ন গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন এক জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে। সয়েনা কলেজ রিচার্স ইন্সটিটিউট পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্ল্যাকম্যানকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার সমর্থন করছেন।

জরিপে দেখা যায়, যদি আজই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে ৩৪ শতাংশ ভোটার ব্ল্যাকম্যানকে ভোট দিতেন। অন্যদিকে, বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে পুনর্র্নিবাচিত করতে চান ৪৭ শতাংশ ভোটার, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখছে। জনমত জরিপে শুধু ভোটের সম্ভাবনাই নয়, জনপ্রিয়তার সূচকেও হোকুল ব্ল্যাকম্যানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। হোকুলের ফেভারেবিলিটি রেটিং ৪৫ শতাংশ, যেখানে ব্ল্যাকম্যানের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৮ শতাংশ।
এছাড়া, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন, তারা ব্ল্যাকম্যান সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিচিত নন বা তার বিষয়ে কোনো মতামত গঠন করেননি। এই পরিচিতির ঘাটতি তার নির্বাচনী সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জরিপে আরও উঠে এসেছে, বেশিরভাগ ভোটার বর্তমান গভর্নরের কাজের প্রতি সন্তুষ্ট। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার হোকুলের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন, যা তার পুনর্র্নিবাচনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন প্রার্থীর উচ্চ জনপ্রিয়তা ও ইতিবাচক কাজের মূল্যায়ন নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দিক থেকে হোকুল বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। জরিপে নিউইয়র্কের ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া গেছে। প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত-যা দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে জনমতের প্রতিফলন।
অন্যদিকে, অভিবাসন ইস্যুও নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ঋড়ী ঘবংি-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্ল্যাকম্যান সম্প্রতি অভিবাসন নীতি ও আইসের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাকম্যানের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো তার সীমিত পরিচিতি ও কম জনপ্রিয়তা কাটিয়ে ওঠা। যদিও তিনি প্রাথমিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য ভোটভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও জনসমর্থন অর্জন ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, ক্যাথি হোকুল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, উচ্চ পরিচিতি এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী জনসমর্থনের কারণে এগিয়ে রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে প্রচারণার কৌশল, প্রাধান্য পাওয়া রাজনৈতিক ইস্যু এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর।
রানিং মেট হচ্ছেন অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস
গভর্নর কেটি হোকুল তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনী লড়াইয়ে রানিং মেট হিসেবে সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসকে মনোনীত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হোকুল তাঁর নির্বাচনী টিকিটে আঞ্চলিক ভারসাম্য আনলেন। ৬৫ বছর বয়সী অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস গত ডিসেম্বর মাসে চার বছর দায়িত্ব পালনের পর সিটি কাউন্সিল স্পিকারের পদ ছাড়েন। হোকুল ও অ্যাডামস-দুজনই রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত। তবে অ্যাডামসের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে হোকুলের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গভর্নর হোকুল ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। তিনি অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসকে “একজন যোদ্ধা” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম। এই প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলের টিকিটে গভর্নর ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরÑউভয় পদে দুই নারী প্রার্থী একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এক বিবৃতিতে হোকুল বলেন, “অ্যাড্রিয়েন জানেন কঠোর পরিশ্রমের অর্থ কী এবং যারা সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করে, তাদের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার হিসেবে তিনি পরিবার সুরক্ষা, আবাসনকে আরও সাশ্রয়ী করা, শিশুদের জন্য বিনিয়োগ এবং শহরের ক্ষতি করতে চায়—এমন যে কারও বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নেতৃত্ব দিয়েছেন।” অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস তাঁর মনোনয়নে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের জল্পনার অবসান হলো। এর আগে হোকুল নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক নেতাকে সম্ভাব্য রানিং মেট হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত হলে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস হবেন গভর্নর হোকুলের তৃতীয় লেফটেন্যান্ট গভর্নর। এর আগে ব্রায়ান বেঞ্জামিন ঘুষের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পদত্যাগ করেন, যদিও পরবর্তীতে মামলার প্রধান সাক্ষীর মৃত্যুর কারণে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
 

শেয়ার করুন: