শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

সামারে রিয়েল এস্টেট খাত দাম নয়, বাস্তবসম্মত  তালিকায় ঝোঁক

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:৩৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সামারে রিয়েল এস্টেট খাত দাম নয়, বাস্তবসম্মত  তালিকায় ঝোঁক

ছবি: সংগৃহীত

গত বছর যেখানে ঘরবাড়ির দাম কমানোর হিড়িক পড়েছিল, সেখানে এই বসন্তের  বা সামারের মূল বিক্রয় মৌসুমে বাড়িওয়ালারা তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছেন। পরে দাম কমিয়ে ক্রেতার আগ্রহ বাড়ানোর অপেক্ষায় না থেকে, তারা শুরুতেই আরো বাস্তবসম্মত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

রিয়েলটরডটকমের সাম্প্রতিক মাসিক হাউজিং মার্কেট ট্রেন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে মার্চ মাসে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ১৬.২ শতাংশের দাম কমানো হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১.২ শতাংশ কম।
রিয়েলটরডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল ব্যাখ্যা করেছেন, ২০২৫ সালটি ছিল দাম কমানো তালিকার আধিক্যের বছর (জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ)। তবে নতুন বছরের প্রথম তিন মাসের তথ্য এই ধারার বিপরীত সংকেত দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বাড়ি বেশিদিন অবিক্রিত পড়ে থাকতে দেখে পরে দাম কমানোর চেয়ে, এখন অনেক বিক্রেতা শুরুতেই তুলনামূলক কম বা সঠিক দাম নির্ধারণ করছেন।’
ডেনভার মেট্রো অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটরের মার্কেট ট্রেন্ড কমিটির সদস্য এবং ব্রোকার সুসান থেয়ার নিশ্চিত করেছেন, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বিক্রেতা এখন তথ্য বা ডেটা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। থোয়ার রিয়েলটরকে বলেন, ‘যেসব বাড়ির দাম শুরুতে সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়, সুন্দরভাবে আধুনিকায়ন করা হয়, ভালোভাবে যতœ নেওয়া হয় এবং পেশাদারভাবে উপস্থাপন ও ছবি তোলা হয়, সেগুলোই বেশি নজর কাড়ছে। বিক্রেতারা এখন এটি বুঝতে শুরু করেছেন কারণ রিয়েলটররা বেশ কিছুকাল ধরেই এই সত্যগুলো তাঁদের সামনে তুলে ধরছেন।’
আবাসন বাজারের অন্যান্য দিকের মতো দাম কমানোর এই বিষয়টিও আঞ্চলিক পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। যোগান কম কিন্তু চাহিদা বেশি এমন এলাকা যেমন, উত্তর-পূর্ব (তালিকার ৯.১%) এবং মধ্য-পশ্চিম (১২.৪%) অঞ্চলে দাম কমানোর ঘটনা কম। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা দক্ষিণ (১৮.৪%) এবং পশ্চিম (১৭.৩%) অঞ্চলে এটি বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, চারটি অঞ্চলেই বার্ষিক ভিত্তিতে দাম কমানো তালিকার হার সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হ্রাস (-১.৯%) পেয়েছে, এরপর রয়েছে পশ্চিম (-০.৭%), মধ্য-পশ্চিম (-০.২%) এবং উত্তর-পূর্ব (-০.১%)।
মেট্রো শহরগুলোর পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিক্রেতারা দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বিবর্তিত পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। তারা একটি চ্যালেঞ্জিং বসন্তকালীন বাজারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে ইরানের চলমান সংঘাত, ক্রমবর্ধমান বন্ধকী সুদের হার এবং ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর বিষয়ে ফেডারেল রিজার্ভের ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
 

শেয়ার করুন: