শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

এআই দিয়ে ঘর  সাজানো এবং  ক্রেতারা... 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এআই দিয়ে ঘর  সাজানো এবং  ক্রেতারা... 

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চবিত্ত বা বিলাসবহুল আবাসন বিপণন সবসময়ই জাঁকজমকপূর্ণ উপস্থাপনা এবং দৃষ্টিবিভ্রমের শিল্পের ওপর নির্ভর করে এসেছে। যেমন, পেশাদারভাবে আসবাবপত্র এমনভাবে সাজানো যেন তা কোনো ভাস্কর্য, গ্লসি ম্যাগাজিনে ছাপানোর মতো ঝকঝকে ছবি, আর নিখুঁত আলোকসজ্জা, যা একটি সাধারণ ঘরকে অসাধারণ রূপে বদলে দিতে পারে।

এখন এই বিলাসবহুল ঘর বিক্রির সরঞ্জামে দ্রুত যুক্ত হচ্ছে এক নতুন মাধ্যম : আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।
নিউ ইয়র্ক সিটির ‘কোল্ডওয়েল ব্যাঙ্কার ওয়ারবার্গ’-এর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট পারিসা আফখামি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঘর সাজানোর ব্যবহার আকাশচুম্বী হয়েছে।’
আসল আসবাবপত্র ভাড়া করে এনে সাজানোর বদলে কম্পিউটারের পিক্সেল ব্যবহার করে ঘর সাজানোর এই প্রবণতা বাড়ার মূল কারণ হলো কাজটির সহজলভ্যতা। এআই-চালিত প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে এজেন্টরা কয়েক ক্লিকেই খালি ঘরে ডিজিটাল আসবাব বসাতে পারেন, দেয়ালের রং পরিবর্তন করতে পারেন, অগোছালো জিনিস সরিয়ে ফেলতে পারেন, এমনকি পুরো ঘরের নকশাও বদলে দিতে পারেন। এতে মালবাহী ভ্যান থেকে আসবাব নামানোর ঝক্কি নেই। এই প্রযুক্তি সস্তা, সবার জন্য সহজলভ্য এবং ঘর বিক্রির প্ল্যাটফর্মগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে কিছু রিয়েল এস্টেট পেশাদার, বিশেষ করে যারা দামি আবাসন নিয়ে কাজ করেন, তারা বলছেন যে ছবিগুলো যত বেশি উন্নত হচ্ছে, অনলাইনে দেখা উপস্থাপনা এবং আসল সম্পত্তির মধ্যে ব্যবধান তত বেশি প্রকট হচ্ছে। মানুষ এখন এআই দিয়ে অতিমাত্রায় সম্পাদিত ছবিগুলোকে ‘হাউসফিশিং’ বলতে শুরু করেছে। এটি মূলত ‘ক্যাটফিশিং’ শব্দ থেকে এসেছে, যেখানে মানুষ অন্যকে ঠকানোর জন্য ইন্টারনেটে নকল পরিচয় তৈরি করে।
আফখামি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এআই স্ট্যাজিং ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে। মাঝেমধ্যে আমি ক্রেতাদের নিয়ে কোনো বাড়িতে গিয়ে দেখি, অনলাইনে দেওয়া ছবির সাথে বাস্তবের সম্পত্তির খুব সামান্যই মিল আছে।’
এমনই এক ঘটনায় গরমিল এতটাই বেশি ছিল, ক্রেতা দেখার সাথে সাথেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
আফখামি আরো জানান, আমি দুবাইয়ের এক ক্লায়েন্টকে অনলাইনে দেখা একটি অ্যাপার্টমেন্ট দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। তালিকার ছবিগুলোতে ছিল চমৎকার আধুনিক আসবাবপত্র এবং সেন্ট্রাল পার্কের অসাধারণ দৃশ্য।’
কিন্তু বাস্তবতা? ছিল পুরোপুরি ভিন্ন।
আফখামি বলেন, ‘যখন আমরা সেখানে পৌঁছালাম, দেখলাম অ্যাপার্টমেন্টটি বেশ নিচের তলায় এবং জানালার সামনে শুধু একটি দেয়াল দেখা যায়। ঘাড় অনেকখানি বাঁকা করলে তবেই পার্কের সামান্য অংশ চোখে পড়ে। সেখানে কোনো আধুনিক সাদা আসবাবপত্র ছিল না, বদলে ছিল অনেক রঙচঙে প্রিন্টের আসবাব ও জিনিসপত্র। বলা বাহুল্য, আমার ক্লায়েন্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।’ 
এই ধরনের চরম প্রতিক্রিয়ার কারণ খুবই সহজ : অ্যারিজোনার টেম্পে-র ‘হোমস্মার্ট’-এর এজেন্ট গ্রেগ ফিল্ড বলেন, ‘একবার যখন কোনো ক্রেতা বুঝতে পারেন যে তাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, তখন তিনি সম্পত্তির সম্ভাবনা দেখার বদলে পুরোটা সময় অন্য কোনো লুকানো খুঁত খোঁজার পেছনে ব্যয় করেন।’
 

শেয়ার করুন: