ছবি: সংগৃহীত
মেয়র জোহরান মামদানি রাস্তাঘাটে কুরুচিপূর্ণ হয়রানি রুখতে বিগ অ্যাপেলের (নিউ ইয়র্ক সিটি) সাবওয়ে, ফেরি এবং নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে ২,৫০,০০০ ডলারের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার অভিযান (অ্যাড ক্যাম্পেইন) শুরু করছেন।
অবাঞ্ছিত শিস দেওয়া বা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য বন্ধ করার এ ব্যয়বহুল উদ্যোগটি বুধবার থেকে শুরু হয়ে পুরো এপ্রিল মাস (যৌন সহিংসতা সচেতনতা মাস) জুড়ে চলবে। সিটি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচটি বরোজুড়েই ব্যস্ততম স্থানগুলোতে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় ডজনখানেক ঝলমলে পোস্টার ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হবে।
অ্যানিমেটেড এই বিজ্ঞাপনগুলোতে ‘হে সেক্সি’ এবং ‘হে বেবি’-এর মতো বাক্যগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো সাবওয়েতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বার এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরিতে ১ কোটি ৫০ লাখ বারেরও বেশি প্রদর্শিত হবে। এছাড়া ১৫০টি স্থানে ফুটপাত সংকেত (ডিকাল) এবং ৭৫টি নির্মাণাধীন অঞ্চলের পাশে পোস্টার লাগানো হবে।
এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘যৌন সহিংসতা সচেতনতা মাসের স্বীকৃতিস্বরূপ, রাস্তার হয়রানি বন্ধের এই ক্যাম্পেইনকে সমর্থন করতে পেরে আমি গর্বিত।’
রঙিন এই বিজ্ঞাপনগুলোতে কিউআর কোড রয়েছে, যা বিভিন্ন ভাষার সহায়তা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত। ২০২৪ সালের একটি জরিপের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ১০ জন নিউ ইয়র্কবাসীর মধ্যে ৭ জনই রাস্তায় হয়রানির শিকার হয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৩% শারীরিক হয়রানির কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা, পিছু নেওয়া বা স্পর্শ করা।
নিউ ইয়র্ক সিটি স্ট্রিট হ্যারাসমেন্ট প্রিভেনশন অ্যাডভাইজরি বোর্ডের জরিপ অনুসারে, ৫০%-এরও বেশি ভুক্তভোগী এর ফলে বিষণœতা বা দুশ্চিন্তায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই তাদের যাতায়াতের নিয়মিত পথ বদলে ফেলেছেন এবং প্রায় ২৯% মানুষ এই আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে বাঁচতে শহর ছাড়ার কথা বিবেচনা করেছেন।
প্রায় ৫৪% ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তারা চেয়েছিলেন পথচারীরা এগিয়ে আসুক, আর ৩৮% চেয়েছিলেন পুলিশ হস্তক্ষেপ করুক।
মেয়র অফিসের ‘ডোমেস্টিক অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স’ নির্মূল শাখার কমিশনার সালোনি সেঠি বলেন, ‘রাস্তার হয়রানির বাস্তব পরিণাম রয়েছে, নিউ ইয়র্কবাসীরা বলছেন এটি দুশ্চিন্তা ও বিষণœতা তৈরি করছে, তাদের যাতায়াতের পথ বদলাতে বাধ্য করছে এবং এমনকি কাউকে কাউকে নিউ ইয়র্ক সিটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবাচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ’বর্ণ, জাতিসত্তা, বয়স, লিঙ্গ পরিচয়, যৌন অভিযোজন, অভিবাসন স্থিতি বা শারীরিক অক্ষমতা নির্বিশেষে প্রতিটি নিউ ইয়র্কবাসীর ভয়হীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার থাকা উচিত। চলুন সেই বাস্তবতা তৈরিতে একসাথে কাজ করি।’
এছাড়া কুইন্স এবং ব্রঙ্কসের ফুটপাতেও বিজ্ঞাপন সংকেত দেখা যাবে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরি (ম্যানহাটন মেইন কনকোর্স এবং ডিপার্চার লাউঞ্জসহ) এবং সাবওয়ের এ, ই, এম, এফ, জি, আর , ২, ৪, ৭, এল, জে এবং জেড লাইনে অ্যানিমেটেড ডিজিটাল বিজ্ঞাপনগুলো চলবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধান ট্রানজিট হাবগুলোতে কর্মীরা সচেতনতামূলক পাম-কার্ডও (ছোট কার্ড) বিলি করবেন।

















