শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

সমস্যার মুখে তিন রাজ্যে কয়েক মিলিয়ন মানুষ 

যুুক্তরাষ্ট্রের ¯œ্যাপ দিয়ে খাদ্য কিনতে নতুন বিধিনিষেধ

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:৩২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

যুুক্তরাষ্ট্রের ¯œ্যাপ দিয়ে খাদ্য কিনতে নতুন বিধিনিষেধ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের তিন রাজ্যে কয়েক মিলিয়ন ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ (এসএনএপি) বা খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারী এই মাস থেকে তাদের সুবিধার অর্থ দিয়ে খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দেশের বৃহত্তম এই ক্ষুধা নিবারণ কর্মসূচিতে ‘পুষ্টিগুণ ফিরিয়ে আনার’ বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল মাসে টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং কলোরাডোতে নতুন নির্দেশিকা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে এই রাজ্যগুলোর বাসিন্দারা স্ন্যাপ কর্মসূচির আওতায় পাওয়া অর্থ দিয়ে সোডা বা কোমল পানীয় এবং ক্যান্ডির মতো নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কিনতে পারবেন না। চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতেও এই বিধিনিষেধ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। যদিও নিয়মটি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ছিল, তবে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মানবসেবা বিভাগ খুচরা বিক্রেতাদের ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল এটি পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য।
এই পরিবর্তনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টার অংশ যেখানে রাজ্যগুলোকে এমন সব ছাড় বা ‘ওয়েভার’ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা তাদের স্ন্যাপ গ্রহীতাদের খাদ্য ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা দেয়। এটি মূলত স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ বা ‘মাহা’ অভিযানের একটি অংশ।
মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রশাসন এ পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন রাজ্যের এই সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেছে, যার ফলে সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন তারিখে এই বিধিনিষেধগুলো কার্যকর হবে।
ইউএসডিএ জানিয়েছে, পশ্চিম ভার্জিনিয়াসহ আটটি রাজ্যে বছরের প্রথম দুই মাসেই নতুন নিয়ম কার্যকর করার কথা ছিল। এপ্রিল থেকে শুরু করা তিন রাজ্যসহ আরও ১১টি রাজ্যে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই নিয়ম চালু হবে। অন্যান্য রাজ্য যেমন ওয়াইমিং এবং নেব্রাস্কায় ২০২৭ ও ২০২৮ সালের আগে এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার কথা নেই।
এদিকে গত সপ্তাহেই উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টনি এভারস স্ন্যাপ (স্থানীয়ভাবে ফুডশেয়ার নামে পরিচিত) সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এটি রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দেয় যেন তারা এই কর্মসূচির অর্থ দিয়ে কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ও ক্যান্ডি কেনা নিষিদ্ধ করার জন্য ছাড় বা ওয়েভারের আবেদন করে।
দেশজুড়ে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মগুলোর ধরন ভিন্ন ভিন্ন। কোনো রাজ্যে শুধু সোডা কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আবার কোথাও ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ৫০ শতাংশের কম প্রাকৃতিক রসযুক্ত ফল বা সবজির পানীয় এবং তৈরি মিষ্টান্ন কেনাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, বুধবার থেকে টেক্সাসে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে ‘মিষ্টিযুক্ত পানীয়’ এবং ক্যান্ডি কেনা নিষিদ্ধ। টেক্সাস রাজ্য ‘মিষ্টিযুক্ত পানীয়’ বলতে এমন সব অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়কে বুঝিয়েছে যাতে পাঁচ গ্রাম বা তার বেশি চিনি যোগ করা হয়েছে অথবা কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুধ, প্রাকৃতিক মিষ্টি (যেমন স্টেভিয়া) এবং ‘মেডিকেল গ্রেড ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়’-এর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যান্ডির সংজ্ঞায় প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম মিষ্টি দিয়ে তৈরি যেকোনো মিষ্টান্নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টেক্সাস স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধ চকলেট, দই বা ক্যারামেলের প্রলেপ দেওয়া শুকনো ফল, কিশমিশ ও বাদামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। রাজ্যটি খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নিয়ম না মানলে তারা স্ন্যাপ সুবিধা গ্রহণের বৈধতা হারাবে।
অন্যদিকে, কলোরাডোতে ৩০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বিধিনিষেধ কেবল প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফ্লোরিডায় ২০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে সোডা, এনার্জি ড্রিংক, ক্যান্ডি এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত তৈরি মিষ্টান্ন কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্লোরিডা ‘এনার্জি ড্রিংক’ বলতে প্রতি ৮ আউন্সে ৬৫ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়কে বুঝিয়েছে।
স্ন্যাপ কর্মসূচিতে এই ব্যাপক পরিবর্তনগুলো এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের গত গ্রীষ্মে পাস করা গুরুত্বপূর্ণ কর আইন ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর ফলে। নিরপেক্ষ ‘কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস’-এর হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে (যার মধ্যে গ্রহীতাদের জন্য কাজের শর্ত এবং রাজ্যগুলোকে দেওয়া তহবিলের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত) সুবিধাভোগীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
কিছু নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন ‘সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ’ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এই নিয়মগুলো খাদ্যতালিকায় উন্নতির প্রমাণ ছাড়াই মানুষের ‘পছন্দের মর্যাদা’কে খুণ্ণ করছে। তারা লিখেছে, গবেষণায় দেখা গেছে স্ন্যাপ গ্রহীতা এবং সাধারণ পরিবারের বাজার করার ধরণ প্রায় একই রকম, বরং স্ন্যাপ কর্মসূচি সুস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা খরচ কমানোর সাথে যুক্ত।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই বিধিনিষেধের প্রশংসা করেছেন। কৃষি সচিব ব্রুক রলিন্স যখন ডিসেম্বরে আরোা ছয়টি রাজ্যের আবেদন মঞ্জুর করেন, তখন রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকানদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
কেনেডি বলেন, ‘আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে পারি না যা করদাতাদের এমন কর্মসূচিতে অর্থ দিতে বাধ্য করে যা মানুষকে অসুস্থ করে, এবং পরে আবার সেই অসুস্থতার চিকিৎসার জন্যও করদাতাদের অর্থ খরচ করতে হয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় ডায়েটারি গাইডলাইনেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক।
 

শেয়ার করুন: