শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশী তরুণীর জানাজা 

নিউইয়র্ক

প্রকাশিত: ০০:২২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশী তরুণীর জানাজা 

ছবি - নবযুগ

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর উডসাইডে একটি গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশী তরুণী নিশাত জান্নাতের নামাজে জানাজা মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিটির উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে তার বাবা বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম হেলাল আহমদ ইমামতি করেন। তার আগে নিহত মেয়র জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া করেন। জানাজায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে নিহত নিশাত জান্নাতের মরদেহ ঐদিনই নিউজার্সীর বাংলাদেশ সোসাইটির কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিশাত জান্নাতের ঘটনায় পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, তাদের দেশের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘরগাঁওয়ে। নিহত নিশাত জান্নাতের পরিবার ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। 
এদিকে নিশাত জান্নাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ইউএস কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস মেং এক বিবৃতিতে  গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। 
পুলিশ জানায়, উডসাইডের রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৬২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অর্থাৎ বাংলাদেশী মালিকাধীন গ্রোসারী ফুড ফেয়ার রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় নিশাত ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পশ্চিমমুখী রুজভেল্ট এভিনিউ দিয়ে আসা ‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’-এর একটি স্যানিটেশন ট্রাক ডান দিকে ঘুরে ৬২তম স্ট্রিটের উত্তরমুখী লেনে ওঠার সময় তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পুলিশের মতে, সংযোগস্থলের উত্তর পাশে এই আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই ইএমএস কর্মীরা নিশাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোন নওশিন জান্নাত জানান, নিশাত জ্যামাইকার পারসন্স বুলেভার্ডে একটি পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতো এবং সেখানে সে কালো ইউনিফর্ম পরতো। সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কে পড়াশোনার পাশাপাশি নিশাত কাজ করছিল। রোববার রাত ১১টার দিকে কাজ শেষ করে ছোট বোনের জন্য কেক আনতে নিশাত উডসাইড ট্রেন স্টেশনে নামে। এরপর আর কথা না হওয়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে বাসায় না ফেরায় বাসার সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে নিশাতের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে রাত প্রায় ২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশাতের মর্মান্তিক ঘটনা জানতে পারেন। সে সময় সেখানে পুলিশ দেখতে পান এবং নিশাতের মরদেহ ঢাকা অবস্থায় ট্রাকের নীচেই পড়েছিলো।
নিহতের চাচা জামাল আহমদ জানান, তারা নিশাতের খবর না পেয়ে ফোন ট্যাক করে ঘটনাস্থল গিয়ে পুরো ঘটনা জানতে পারেন। পুলিশ প্রথমে কিছু জানাতে না দিলেও পরে নাম ঠিকানা, ফোন নাম্বার দিলে তারা নিশ্চত করে যে নিশাত-ই এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার। তিনি জানান, তখনও নিশাতের মরদেহ ট্রাকের নিচে ছিলো আর পুলিশ ঘটনাস্থল বেরিকেড দিয়ে রেখেছিলো।  
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত স্যানিটেশন ট্রাকটির চালক, ৩৮ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঐ নারীকে জিজ্ঞাবাসবাদ করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড ঘটনাটি তদন্ত করছে।
এদিকে সোমবার (৩০ মার্চ) রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘তারা তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্ট কানেকশনস’-এর এক মুখপাত্র বলেন, কুইন্সে আজ সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের পক্ষ থেকে আমরা নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। চলমান তদন্তের স্বার্থে এবং সংশ্লিষ্টদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করছি না।’
জানাজা ও দাফন: উডসাইডে একটি গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশী তরুণী নিশাত জান্নাতের নামাজে জানাজা মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাদ জোহর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার বাবা বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম হেলাল আহমদ ইমামতি করেন। তার আগে নিহত মেয়ের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া করেন। জানাজায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতিব মির্জা আবু জাফর বেগ, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদিবদন নেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, মূলধারার রাজনীতিক এটর্নী মঈন চৌধুরী সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে নিহত নিশাত জান্নাতের মরদেহ অপরাহ্নে নিউজার্সীর বাংলাদেশ সোসাইটির কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইউএস কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং’র শোক: নিশাত জান্নাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ইউএস কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস মেং এক বিবৃতিতে  গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। গ্রেস মেং তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোষ্টে বলেন, নিশাত জান্নাতের আকস্মিক মৃত্যু ও ক্ষতিতে শোকাহত পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য তিনি প্রার্থনা করছেন। একই সাথে তিনি ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা দায়িত্বপালনকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আরো জানান যে, দূর্ঘটনার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের চলমান তদন্তের আপডেটের দিকেও নজর রাখবেন।   
 

শেয়ার করুন: