শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

করোনার নতুন ভেরিয়েন্টে  আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:১২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

করোনার নতুন ভেরিয়েন্টে  আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আবারো করোনা ভাইরাসের নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ‘সিকাডা’ নামে পরিচিত এই ভ্যারিয়েন্টটির বৈজ্ঞানিক নাম বিএ.৩.২, যা মূলত ওমিক্রনের একটি উপধারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২৪ সালের শেষ দিকে। পরে কিছু সময় নিস্ক্রিয় থাকার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে এটি আবার সক্রিয় হয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি অন্তত ২৩টি দেশে পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম ধরা পড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর মাধ্যমে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে, বিশেষ করে ওয়েস্টওয়াটার (পয়ঃনিষ্কাশন) পরীক্ষায় এর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫টির বেশি অঙ্গরাজ্যে এর নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
তবে বর্তমানে এটি মোট সংক্রমণের তুলনায় এখনও কম শতাংশ দখল করে থাকলেও, এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটির স্পাইক প্রোটিনে প্রায় ৭০টির বেশি মিউটেশন রয়েছে, যা এটিকে তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রামক করতে পারে এবং পূর্বের সংক্রমণ বা টিকার মাধ্যমে তৈরি প্রতিরোধ ক্ষমতা আংশিকভাবে এড়িয়ে যেতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি মারাত্মক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ের।
এই ভ্যারিয়েন্টের লক্ষণগুলো মূলত আগের করোনা সংক্রমণের মতোই। যেমন: গলা ব্যথা, জ্বর ও কাঁপুনি, শুকনো কাশি, নাক বন্ধ বা সর্দি, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি, মাথাব্যথা, কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এই ভ্যারিয়েন্টটিকে বর্তমানে ‘ভেরিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ এটি এখনও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত না হলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিদ্যমান টিকা এখনও গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। তাই বুস্টার ডোজ গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ওমিক্রন-উৎপন্ন ভ্যারিয়েন্ট ঘুরে বেড়ালেও নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের কারণে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে আবার সংক্রমণ বাড়তে পারে—তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
 

শেয়ার করুন: