
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির একটি মিডল স্কুল একটি সপ্তাহেই ব্রুকলিনের এক ক্যারিবিয়ান রেস্তোরাঁয় খাবার বাবদ ২০ হাজার ডলার খরচ করেছে। আর পুরো টাকাটাই গেছে করদাতাদের তহবিল থেকে।
রশিদ থেকে জানা যাচ্ছে যে, ব্রুনসভিল কোলাবোরেটিভ মিডল স্কুল কয়েক ব্যক্তির জন্য ব্যাকন ও সসেজ বাবদ ৬০০ ডলার, বিশেষভাবে রান্না করা ডিমের জন্য ৬০০ ডলার, গরুর লেজের স্যুপের জন্য ৪৮০ ডলার ব্যয় করেছে। এটি ছিল শিক্ষা বিভাগের ৭,৪৫ হাজার ডলারের বিশাল খরচের অংশবিশেষ।
এখানেই শেষ নয়, চা ও কফির জন্যও বিপুল পরিমাণে অর্থ খরচ হয়েছে, প্রতিটির জন্য ২০০ ডলার করে। আর কমলার জুসের জন্য খরচ হয়েছে ৩০০ ডলার।
২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ফিউশন ইস্ট থেকে মিডল স্কুলটি ১৩ বার খাবারের ক্রয়াদেশ দেয়। এসব ক্রয়াদেশের বেশিভাগই সর্বোচ্চ সীমার বাইরে ছিল বলে কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বিপুল পরিমাণ বিল দেখে নগরীর কম্পট্রোলারের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল হলেন গ্রেগরি জ্যাকসন। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জানা গেছে, দুটি আলাদা ঘটনায় তিনি প্রায় ১০০ জনের জন্য ২,৯৩০ ডলারের নাস্তার ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। প্রাপ্ত রশিদে দেখা যায়, ক্রয়াদেশের মধ্যে ব্যাকন ও সসেজ, ডিম, ওয়াফল ও হোম ফ্রাই ছিল। কফি ও টি বক্সের দাম পড়েছিল ২০০ ডলার। আর কমলার জুসের খরচ পড়ে ৩০০ ডলার।
এছাড়া দুটি পৃথক মধ্যাহ্নভোজে প্রায় ১০০ জনের জন্য ব্যয় হয়েছিল ২,৪১০ ডলার।
তবে কী উপলক্ষে খাবারের এমন আয়োজন করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রাপ্ত ভাউচারগুলোতে কেবল ‘স্কুল ইভেন্ট’ লেখা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে শিক্ষা বিভাগ অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি কারা এসব খাবার গ্রহণ করেছিলেন, তাও জানাতে অস্বীকার করেছে বিভাগটি।
তবে তারা ইতোপূর্বে জানিয়েছিল যে মিডল স্কুলটি তাদের ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে ফিউশন ইস্টের মালিক অ্যান্ড্রু ওয়ালকট এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তাদের রেস্তোরাঁর পাওনা মেটানো হয়েছিল ১৩ কিস্তিতে। পাওনা পেতে দেরি হওয়ায় তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার পাওনা আট মাস পর্যন্ত আটকিয়ে রাখা হয়েছিল।