বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

জেগে উঠছে নিউইয়র্কের মানুষ

‘টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ছেলেকে পাগল করেছে’, মায়ের মামলা

নবযুগ ডেস্ক 

প্রকাশিত: ০০:৩৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

‘টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ছেলেকে পাগল করেছে’, মায়ের মামলা

প্রতিকী ছবি

টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম তার কিশোর ছেলেকে পাগল বানিয়েছিল। আর এ কারণেই দুই সাবওয়ে কারের মাঝখানে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এমন দাবি করে নিউইয়র্ক সিটির এক মা সামাজিক মাধ্যম দুটি এবং এমটিএর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ম্যানহাটান সুপ্রিম কোর্টে নরমা নাজারিও নামের ওই মা তার ১৫ বছরের ছেলে জ্যাকেরির মৃত্যুর বর্ষপূর্তিতে মামলাটি করেন। তিনি মামলায় বলেন, উইলিয়ামবার্গ ব্রিজ এলাকায় তার ছেলে একটি জে ট্রেনের ওপরে ওঠে ‘সার্ফিং’ করার সময় দুটি সাবওয়ে কারের মধ্যে পড়ে তার মাথা গুঁড়িয়ে মৃত্যুবরণ করে।

ওই মা তার ছেলের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন সামাজিক মাধ্যমের ওই দুই কোম্পানি এবং এমটিএর কাছে। তবে তিনি অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তিনি ট্রেনে ওঠা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিবন্ধকতা স্থাপন না করার জন্য এমটিএকে দায়ী করেছেন।

মামলায় দাবি করা হয় যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের ‘বিপজ্জনক’ রিকমেন্ডেশন প্রযুক্তি পরিবর্তন করার ফলে রোমাঞ্চপ্রিয়রা প্রাণঘাতী কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

ওই মা সামাজিক মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে বলেন, ‘তারা আমাকে বিলিয়ন ডলার দিতে পারে। কিন্তু আমি থামব না। এমটিএ এবং এসব সামাজিক মিডিয়া কোম্পানি যতক্ষণ না তাদের দায়িত্ব স্বীকার করা শুরু করবে এবং আমাদের সন্তানদের হত্যা করা বন্ধ করবে, ততক্ষণ আমি থামব না।’

জ্যাকেরি ছিলেন ক্লিনটন স্কুলের ১০ম গ্রেডের ছাত্র। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ‘সাবওয়ে সার্ফিং চ্যালেঞ্জ’ নামের ভাইরাল হওয়া ভিডিও পাওয়ার পর তিনি ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রুকলিনগামী ট্রেনে ওঠেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরে মাথায় একটি বিমের আঘাত পেয়ে দুটি সাবওয় কারের মাঝখানে পড়ে যান।

নাজারিও দাবি করেন, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম তাদের পণ্যের ‘অযৌক্তিক বিপজ্জনক’ ডিজাইন করে। এতে কিশোররা আসক্ত হয়ে পাগল হয়ে যায়।

সোস্যাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান বলেন, ‘জ্যাকেরির ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা দুর্ঘটনা বা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোর অনিবার্য ফলাফল এগুলো।’ তিনি বলেন, তারা তরুণদের আসক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এসব ভিডিও বানিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সাবওয়ে সার্ফিং করার সময় জ্যাকেরিসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে।

শেয়ার করুন: