শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

টাইটেল ৪২ বাতিল হওয়ায় কী হবে

বিজয় রহমান

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ২০ মে ২০২৩

টাইটেল ৪২ বাতিল হওয়ায় কী হবে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত টাইটেল ৪২ মহামারি জরুরি আইনটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এই আইনটি বাতিল হয়ে যাওয়ার ফলে আমেরিকার মাটিতে যাওয়া সকল অভিবাসী শরণার্থীকে টাইটেল -এর আওতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর অর্থ হলো তাদেরকে এখন একগুচ্ছ জটিল কয়েক দশক পুরনো অভিবাসী আইন অনুসরণ করতে হবে।

সহজ ভাষায় বলা যায়, অভিবাসী শরণার্থীদেরকে এখন করোনাভাইরাস আবির্ভাবের আগের নিয়মে চলতে হবে।

অভিবাসীদের এখন যে নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, সেটি চালু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আগমনকারী শরণার্থীরা যদি জানায় যে তারা বিপদে পড়ে এসেছে, তবে কর্মকর্তারা তাদেরকে সাক্ষাতকার দেবেন। তবে এর মানে এই নয় যে সকল অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার অনুমতি দেওয়া হবে।

বাস্তবে, বাইডেন প্রশাসন যে আইনটি চালু করেছে, সেটির ফলে শরণার্থী হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করা হবে অনেক কঠিন কাজ। আবার এই আইনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক সহজে তাদেরকে ডিপোর্ট করতে পারবে। আবার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে থাকতে দেওয়া হবে না। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই আইনগত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।

টাইটেল -এর আওতায় অভিবাসীদের নিকট-ভবিষ্যতে যেভাবে সামাল দেওয়া হবে: টাইটেল এবং টাইটেল ৪২ উভয়টিই ফেডারেল আইন। টাইটেল হলোঅ্যালাইন্স অ্যান্ড ন্যাশনালিটি সাথে সম্পৃক্ত। আর টাইটেল ৪২ ছিলদি পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারবিষয়ক।

টাইটেল ৪২ আইনটির ভিত্তি ছিল ১৯৪৪ সালের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আইন। সংক্রমণশীল রোগ ছড়িয়েমারাত্মক বিপদসৃষ্টি করতে পারে, এমন লোকজন পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য ওই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন কোভিড-১৯-এর সময় নতুনভাবে টাইটেল ৪২ দিয়ে আইনটি কার্যকর করেছিলেন।

এই আইনের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় না দিয়ে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হতো, বিশেষ করে মেক্সিকো পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তবে টাইটেল ৪২-এর আওতায় যাদেরকে ডিপোর্ট করা হতো, তারা আবারো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করতে পারত। কিন্তু টাইটেল আরো কঠিন। এই আইনে বহিষ্কার হওয়া লোকজন পাঁচ বছরের আগে নতুন করে আবেদন করতে পারবে না। আবার যদি কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে, তবে তাকে জেল-জরিমানা উভয়টির মুখে পড়তে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী আইনে যেভাবেই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারলে তাকে আশ্রয় প্রার্থনা করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বাইডেনের নতুন সংযোজনের ফলে আদালতের শুনানি ছাড়াই অভিবাসীদের দ্রুত ডিপোর্ট করা যাবে।

অবশ্য বাইডেন প্রশাসন সরকারি অনুমোনক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে। এতে নিয়ম অনুসারী লোকজন বেশি সুবিধা পাবে।

শেয়ার করুন: