শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভায় মতিউর রহমান চৌধুরী

রাজনীতি ঠিক হয়নি নিয়ন্ত্রণ করেন অন্যরা

নিউইয়র্ক

প্রকাশিত: ১৯:২০, ১৭ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি ঠিক হয়নি নিয়ন্ত্রণ করেন অন্যরা

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এবং দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও টক শো উপস্থাপক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো অস্থির। আগামী দিনে বাংলাদেশকে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান নতুন সরকার। কারণ দেশের রাজনীতি ঠিক হয়নি এখনো।

দেশে আমরা নিজেদের মতো রাজনীতি করতে পারিনা। আমাদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাংলাদেশ জন্মের ৫৪ বছরের মধ্যে বিশ্বে অনেক দেশের জন্ম হয়েছে। আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে পারিনি। আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। নিউইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 
সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে গত ১৪ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় দৈনিক মানবজমিন এর সম্পাদক, দেশের জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক ও ছড়াকার মাহবুবা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মতিউর রহমান চৌধুরী এবার নিয়ে মোট সাতটি বিশ্বকাপ ফুটবল আসর কভার করেছেন। ১৯৯০ সালের ইতালী বিশ্বকাপ দিয়ে তার বিশ্বকাপ কভার করার যাত্রা শুরু হয়।  
জনাব মতিউর রহমান চৌধুরী ও মাহবুবা চৌধুরীর সম্মানে মানবজমিন ও বাংলা বাজার পত্রিকার সাবেক স্টাফদের আয়োজনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি, গণমাধ্যম পরিস্থিতি, ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তন, সাংবাদিকতার পেশাগত মান, প্রবাসে বাংলা সাংবাদিকতার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা স্থান পায়।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, সভায় অন্যান্যের মধ্যে মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী, ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এম. শাহীন, প্রবীণ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু ও মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, বিশিষ্ট ব্যবাসায়ী ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সাবেক প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক প্রথম আলো’র সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র বার্তা সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, এনটিভি উত্তর আমেরিকা’র ব্যুরো প্রধান ফরিদ আলম, আলোকচিত্র সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী, দৈনিক আজকের পত্রিকার সাবেক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লুতু, সিনিয়র সাংবাদিক দর্পণ কবীর, মানবজমিন-এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল হোসেন নওশাদ সহ সাবেক সাংবাদিক মনোয়ারুল ইসলাম, শওকত ওসমান রচি, মুজাহিদ আনসারী ও মনিজা রহমান, প্রথম আলোর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি তোফাজ্জল লিটন, ঠিকানা টিভি’র সিনিয়র রিপোর্টার আপেল মাহমুদ, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, এনওয়াই কাগজ-এর সম্পাদক আফরোজা ইসলাম, দৈনিক মানবজমিন-এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান সুমন, সাপ্তাহিক আজকাল-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রানো নেওয়াজ, সিটি এডিটর অনিক রাজ, সাংবাদিক সায়েম আহমেদ, ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, মূলধারার রাজনীতিক মেরি জোবাইদা, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট নাসিমা আক্তার শাহানা, কার্টুনিষ্ট টিপু আলম প্রমুখ ছিলেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। 
সভায় খোলামেলা আলোচনাকালে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ঠিক নেই। সরকার বদলায়, বদলে যায় ইতিহাস। এটা হতে পারে না। ইতিহাস ঠিক করতে হলে আমাদেরও ঠিক হতে হবে। ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আমরা প্রাপ্তির কাছে নিজেদের সমর্পণ করছি। আমাদের সর্বনাশের মূল এই প্রাপ্তি।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, একজন সাংবাদিকের আসল পরিচয় তিনি সাংবাদিক। কিন্তু অনেকে রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিচ্ছেন সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে। এটা কাম্য নয়। সাংবাদিককের জেলে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বরতীকালীন সরকারের সময় এর বিরুদ্ধে আমিই প্রথম বলেছি- যদি তাদের বিচার করতে হয়, তো বিচার করেন, আটকে রাখছেন কেনো। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে- আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ঠেলে দিয়েছি এই অবস্থার দিকে। কেউ না কেউ কোন দলের সমর্থক। একজন সাংবাদিককে আগে সাংবাদিক এবং পরে রাজনীতির পরিচয় তুলে ধরা উচিৎ। ভোটের সময় গোপনে ভোট দিলেই হয়। 
সাংবাদিকদের ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। রাজনীতিবিদরা যেমন তিন-চার ভাগে বিভাজিত, আমরাও বিভক্ত। রাজনীতি আমাদের পেটের মধ্যে। আগে আমরা রাজনীতির পরিচয় দেই অমুকে অমুক দলের লোক বলে। এই পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিকল্প কোনো পথ নেই। কারো পেশা যদি হয় সাংবাদিকতা, তাহলে বাদ দিতে হবে রাজনীতি। তিনি প্রশ্ন রাখে বলেন, আজকে আমরা কোথায় যাচ্ছি, দেশটা কোথায় যাচ্ছে? আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কী কিছু রেখে যাচ্ছি? তিনি বলেন, ‘আমরা আমরা শুধু পেছনে দেখি। টানাটানি করি অতীত নিয়ে। তিনি বলেন, যার যা প্রাপ্য, তা তাকে দিতে হবে। আজ না হোক, কাল না হোক, পরশু দিতে হবে। এটা না দিলে বার বার ওলট-পালট হবে ইতিহাস। তিনি বলেন, ৫৫ বছরের বাংলাদেশ। এই সময়ে পৃথিবীতে স্বাধীন হয়েছে অন্তত ৩৭টি দেশ। তারা পেছনে নেই। আমরা পেছনে যাচ্ছি। আমরা একে অপরকে পেছন থেকে টানছি যেন উপরে উঠতে না পারে।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতার জায়গা। সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো এই সময়গুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমাকে সবসময় নতুন করে কাজ করার সাহস জোগায়।
বিশ্বকাপ ফুটবল প্রসঙ্গে এর উন্মাদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নেই, নিজেরাও খেলছে না। তারপরও অন্য দেশকে সমর্থন করতে গিয়ে বিরোধে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। তিনি বলেন, যেদিন নিজের খেলা খেলতে পারবো, সেদিন বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবো।
সভায় মতিউর রহমান চৌধুরী ও মাহবুবা চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উভয়কে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন মনোয়ারুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন নওশাদ।
 

শেয়ার করুন: