ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির এক প্লাম্বার ২,৬০০ ঘণ্টা ওভারটাইম করার দাবি করে ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। মজার ব্যাপার হলো, তিনি কিন্তু সাধারণ কোনো প্লাম্বার নন। পুরো নিউ ইয়র্ক সিটির মধ্যে তিনি অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনধারী।
২০২৫ অর্থবছর জুড়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবিশ্বাস্য ৩ লাখ ৩২ হাজার ডলার অতিরিক্ত ওভারটাইম ভাতা ঢুকিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী প্লাম্বিং সুপারভাইজার ইয়াকুব মার্কোভস্কি। দ্য পোস্ট পত্রিকা এক বছরেরও বেশি সময় আগে তাকে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের ‘সবচেয়ে বড় ওভারটাইম খাদক’ হিসেবে ফাঁস করার পর, এখন তিনি সিটি কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কোভস্কির ‘ব্যবসায়িক কর্মকা-ের’ বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি সিটি থেকে মোট ৪ লাখ ৬৫... হাজার ডলারের একটি বিশাল অঙ্কের বেতন তুলেছিলেন।
রকওয়ে বিচ বোর্ডওয়াকের কাছে একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বসবাসকারী মার্কোভস্কির সাথে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ৬৩ বছর বয়সী স্ত্রী এলিজাবেথ মার্কোভস্কা (যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়) জানিয়েছেন যে, তার স্বামী কাজেই ব্যস্ত ছিলেন।
গত বুধবার নিজেদের বাড়ি থেকে দ্য পোস্ট-কে তিনি বলেন, ‘তিনি সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করেন।’
রাষ্ট্রীয় রেকর্ড অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি থেকে আকাশচুম্বী ও সন্দেহজনক বেতন তোলার পাশাপাশি মার্কোভস্কি দুটি বেসরকারি ব্যবসাও চালাচ্ছিলেন। এ দুটি হলো ‘সুপার প্লাম্বার্স কর্পোরেশন এনওয়াইসি’ এবং ‘ডাইনামিক ব্লু ওয়াটার মেকানিক্যাল’।
মার্কোভস্কির ব্যবসায়িক কর্মকা-ের ওপর ডিওবির তদন্তের পাশাপাশি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সব সক্রিয় প্লাম্বিং কাজের পারমিট বা অনুমতি তার নামে নেওয়া ছিল, সেগুলো নিরাপদে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে তারা একটি আকস্মিক পরিদর্শন (সুইপ) চালিয়েছেন। ডিওবি কর্মকর্তারা জানান, সেই পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘন পাওয়া যায়নি।
রেকর্ড এবং ওয়াচডগ সংস্থা ‘এম্পায়ার সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কোভস্কি সিটির পঞ্চম সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মচারী।
যদি তিনি এই বিপুল পরিমাণ ২,৫৫৮ ঘণ্টার ওভারটাইম না দেখাতেন, তবে ২০২৫ অর্থবছরে মার্কোভস্কির সাধারণ নিয়মিত মূল বেতন হতো সম্মানজনক ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল অঙ্কের বেতন তুলতে হলে তাকে বছরের ৩৬৫ দিন টানা প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাত ঘণ্টা করে অতিরিক্ত (ওভারটাইম) কাজ করতে হতো।
দ্য পোস্ট যখন প্রথমবার মার্কোভস্কির এই আকাশচুম্বী বেতনের বিষয়টি ফাঁস করে, তখন ‘নাইচা’ (এনওয়াইসিএইচএ) কর্মকর্তারা তার এই বিপুল ওভারটাইমের পেছনে ‘আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক এবং নজরদারি করা ব্যাপক প্লাম্বিং ও হিটিং চাহিদাকে’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে গত বুধবার নাইচা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেনি।
টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করদাতাদের টাকায় মার্কোভস্কির এই ওভারটাইম এবং একই সাথে দুটি বেসরকারি প্লাম্বিং ব্যবসা চালানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘প্লাম্বিং ফাউন্ডেশন অব নিউ ইয়র্ক’ নামক একটি অলাভজনক বাণিজ্যিক গোষ্ঠী অভিযোগ দায়ের করে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এপ্রিল ম্যাকআইভার টাইমসকে বলেন, ‘একই সাথে সিটির প্লাম্বিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং অন্য যেকোনো সিটি কর্মচারীর চেয়ে বেশি ওভারটাইম জমা করার পাশাপাশি একজনকে ব্যক্তিগত প্লাম্বিং ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়াটা অপচয়ের চেয়েও বড় কিছু। এটি নাইচা-র ভবন পরিচালনার সততা, নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।’
সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশন বর্তমানে মার্কোভস্কির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে তাদের তদন্ত কি কেবল তার ওভারটাইমের ওপর, নাকি তার ব্যবসার ওপর, নাকি দুটির ওপরই, তা স্পষ্ট করে জানাতে রাজি হয়নি।
মার্কোভস্কির স্ত্রী মার্কোভস্কা জানান, তার স্বামী তার দুটি প্লাম্বিং ব্যবসা দেখাশোনার জন্য অন্য একজনকে দায়িত্বে রেখেছিলেন।

















