বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

খাইরুল ইসলাম পাখির কিচিরমিচির তেইশ

আপনি নিজের অজান্তেই সারাক্ষণ  মডেলিং করেন, জানেন সেটা?

খাইরুল ইসলাম পাখি

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ২১ জুন ২০২৪

আপনি নিজের অজান্তেই সারাক্ষণ  মডেলিং করেন, জানেন সেটা?

ছবি: সংগৃহীত

আপনি বা আমি যে প্রতিনিয়ত নানা রকম পণ্যের মডেল হয়ে ঘুরছি, এটা কি আমরা জানি? নাকি ভাবি কখনো?  কি অবাক ব্যাপার না! বিভিন্ন কোম্পানি বিনা অনুমতিতে কিংবা কোন পারিশ্রমিক দেয়া ছাড়াই আমাদের সবাইকে নানা কায়দায় ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। এই অস্থির সময়ের প্রতিযোগিতার বাজারে সুকৌশলে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রতিটি মানুষ, মুনাফা লোভীদের নব নব চক্করে বা খপ্পরে।

এখনই নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন, এ কথার সত্যতা কিন্তু মিলবে। হয়তো আপনি পরে আছেন এডিডাস বা ক্লার্কের জুতো কিংবা পরিধান করেছেন টমি হিল ফিগার বা গ্যাপের কিছু, হাতের ব্যাগটিও হয়তো সি কে বা সেমসোনাইট ব্র্যান্ডের, চোখে হয়ত রেবান অথবা পোর্শের চশমা, এর সব কিছুতেই কিন্তু লোগো বা কোম্পানির নাম বিভিন্নভাবে লেখা থাকে। যেন তা সহজেই অন্যদের চোখে পড়ে।আর এভাবেই পণ্যের বাজার প্রসারিত করা হয় সুনিপুণভাবে। কোন কোম্পানি আবার তাদের লোগো, নাম বা স্লোগান এমন বিশাল করে লেখে, যা দেখলে মনে হয় মানুষ গোটা কোম্পানিটাই গায়ে তুলে ঘুরছে! ভাবা যায় আমরা সবাই কেমন নানা পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে বেড়াচ্ছি সম্পূর্ণ ফ্রিতে!  উপরন্তু আমরা যা যা পরে ঘুরছি তা আবার সবার নিজের টাকায়ই কেনা। ইদানিং মুদি দোকান থেকে শুরু করে সব ধরনের শপে তাদের নাম ঠিকানা সহ ব্যাগ ধরিয়ে দেয়া হয়, কিন্তু এসবের দাম আবার আপনার আমার কাছ থেকেই নেয়া হয়। এরপর আমরা এসব ব্যাগ নিয়ে নিয়ে দুনিয়াময় ঘুরে বেড়াই আর তাদের ব্যবসা প্রসারে সহযোগিতা করি।
এবার বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত একটি কৌশল নিয়ে চলুন কথা বলি। ধরুন কোন প্রতিষ্ঠান  বিখ্যাত কাউকে প্রচুর টাকা দিয়ে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন করালো আর তা ফলাও করে সব মাধ্যমে প্রচার করল, এর ঠিক পরেই সেই পণ্য কিনে আম জনতা ফ্রি সার্ভিস শুরু করে দিল। যেমন, শাহরুখ খান এই প্যান্ট পরেছে, জয়া আহসান এই ব্যাগ নিয়ে ঘোরে, টেন্ডুলকারের চোখে এই চশমা, মেসির গায়ে এই জ্যাকেট, যেসব আমাদের চাই-ই চাই। তারপর সেসব পরে তারকাদের ভাব নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয়। এই যে আমরা ফ্রিতে মডেলিং করে করে অন্যকে মুনাফা এনে দিচ্ছি তারা কি আমাদের তথা ভোক্তাদের কথা ভাবে, নাকি ভাবছে?  মনে হয় না। ব্র্যান্ডগুলো অনেকাংশে যেনো শুধু তাদের লোগো বিক্রি করছে চড়া দামে। একই কোয়ালিটির পণ্য কোন নতুন বা অখ্যাত কোম্পানি হয়তো বিক্রি করছে কম দামে কিন্তু ব্যান্ডওয়ালারা সেই একই পণ্য বিক্রি করছে তিন চার গুণ চড়া দামে! যা দিনে দুপুরে ডাকাতির মত।
মজার ব্যাপার হলো, যে ব্যবসায়ী জেনে বুঝে এমন মুনাফা লোটেন সেও কিন্তু কোন না কোন ভাবে কোন কিছুর ভোক্তা। সে তো জানে কিসে বা কি করলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন অথবা ঠকবেন। যে ভোক্তারা  অর্থ খরচ করে অন্যের নাম গায়ে জড়িয়ে ঘুরে ঘুরে অটোমেটিক ফর্মে বণিক শ্রেণীকে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেয়, ব্যবসা দেয়, সেই ভোক্তাকুলের কথা ব্যবসায়ী তথা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কি ভাবেন?  একটু হলেও যেনো ভাবেন। সেটাই একজন ভোক্তা হিসেবে মানুষের চাওয়া।
আমার তো মনে হয় যে, এই যে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কোম্পানির লোগো গায়ে লাগিয়ে বিনা পয়সায় প্রতিনিয়ত মডেলিং করছে তাতে কারোরই তেমন কোন আপত্তি নেই কিংবা কোন ভাবনাও নেই। শুধু মনে হয় খেলনা পুতুলের মত এই যে আমাদের চাবি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়, কতকাল তবে আমরা চরকির মতো ঘুরবো আর ব্যান্ড নিয়ে খেলব? কিন্তু হায়! বাজার অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে কেউ কি ভোক্তাদের কথা ভাবছে?! ভাবা তো উচিত। আপনি কি মনে করেন?’
লেখক: অভিনেতা।
 

শেয়ার করুন: