শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

দুর্গন্ধ ছড়িয়ে সুবাতাস আসবে কি?

অশ্রাব্য গালিগালাজ নতুনভাবে  ধ্বংস করছে রাজনীতি

খাইরুল ইসলাম পাখি

প্রকাশিত: ২১:০৯, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

অশ্রাব্য গালিগালাজ নতুনভাবে  ধ্বংস করছে রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের সুবাদে অনেক কিছুর নতুন সংযোজন হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এমনিতেই আমাদের রাজনীতিতে সুস্থতা-ভদ্রতা অনুপস্থিত দীর্ঘ সময় ধরে। এমতাবস্থায় রাজনীতিতে উপরন্তু যদি জঘন্য ভাষার ব্যবহার হয়, তবে পরিস্থিতি কতটা কদর্য পর্যায়ে নামে সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে কম বেশি সবাই।

গালাগালির সাথে আরো যুক্ত হয়েছে নেতিবাচক শারীরিক অঙ্গভঙ্গি। অন্যদের ঘায়েল করায়  যত অশ্লীল কিছু করা যায়, ততই জেতা যাবে, এমন একটা ধারণা পোষণ করছে অতি উৎসাহী বিপথগামী কতিপয় জেন-জি। যারা গালাগালিকে তাদের বক্তৃতা বিবৃতি ও স্লোগানে যুক্ত করেছে। এদের ধারণা এই অশ্লীল পথেই যেন মুক্তি আসবে। কিন্তু তাদের বোধে এটা নেই যে ময়লা আবর্জনা কেবল দুর্গন্ধই বাড়ায়। আর দুর্গন্ধ ছড়ায়ও  অতি দ্রুত। কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে সুবাতাস আসে কি?
অনেক মূর্খদের দেখবেন তর্কে হেরে যাচ্ছে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষা
বা উগ্র দেহভঙ্গির আশ্রয় নেয়। অভদ্র বিষয় গুলিই ওদের অন্যতম অস্ত্র। কি করে নারী পুরুষ মিলেমিশে অশ্লীল গালিকে স্লোগানে পরিণত করে! কিভাবে বা কোন ঘরে জন্ম ওদের? কি পরিবেশেই ওদের বেড়ে ওঠা? এভাবে কি শুভ কিছু হয়, নাকি হয় কোন সুন্দর পরিণতি? যুক্তিতে আসতে হবে। ভদ্র হয়ে বসতে হবে। নিজের মাঝে শুভ বুদ্ধি কিংবা সহমর্মিতার বোধ জাগ্রত করতে হবে। সমব্যাথী হতে হবে। অপরের জন্য ভাবতে হবে। অন্যকে সম্মান করতে শিখতে হবে। এসব ছাড়া কিন্তু মুক্তি নেই। এসব ছাড়া রাজনীতিও কলুষমুক্ত হয় না। হাতুড়ি বা কুঠার মেরে শেকল ভাঙা যায় কিন্তু শেকল গড়তেও কিন্তু শিল্প লাগে, শিক্ষা লাগে।
তাই গালাগালি ভুলে, রাস্তা ছেড়ে পড়াশুনায় মন দেয়া জরুরি। তাতেই যদি নিজের বা পরিবারের কিছু লাভ হয়। তর্জন গর্জন অনেকতো হলো, মব আর সন্ত্রাস তো কম হলো না। মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, নারী, শিশুকে অসম্মান অত্যাচার তো চলছেই। শান্তি আর স্বস্তিতো নির্বাসিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু ওই বিখ্যাত ছায়াছবিটার নামটি মনে পড়ছে ‘আবার তোরা মানুষ হ’।
 

শেয়ার করুন: