ছবি: সংগৃহীত
প্রায় তিন মাসের দীর্ঘ বিলম্বের পর, যা সংস্থাটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) গত ২০ জুলাই তাদের ডিটেনশন বা আটক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিনের অধীনে দেশের অভ্যন্তরে অভিবাসন সংক্রান্ত দমন-পীড়ন আবারো বেড়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর গ্রেফতারের সংখ্যা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে এবং আটকাধীন মানুষের সংখ্যা আবারো বেড়েছে। বিশেষ করে, কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা সাজা না থাকা আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা কমার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা নাটকীয়ভাবে উল্টে গিয়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে।
সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে দু’টি প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর সংস্থাটি যখন আবারো দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে, ঠিক তখনই এনফোর্সমেন্ট বা দমনমূলক কার্যক্রম বাড়ার এই নতুন তথ্য সামনে এলো। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে একাধিক শহরে সংস্থাটির বেশ কিছু উচ্চ-প্রোফাইল অভিযানের পর অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে আরো বেশি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি ওঠে এবং এর ফলে সংস্থাটির অর্থায়ন নিয়ে টানা কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ নীতি বিশ্লেষক আরিয়েল রুইজ সোতো বলেন, এই নতুন পরিসংখ্যানগুলো অভিবাসন কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, তবে ফলাফল আগের মতোই রয়ে গেছে।
রুইজ সোতো বলেন, ‘আগের কৌশলগুলো ছিল অধিক দৃশ্যমান এবং প্রকাশ্যে অনেক বেশি বিতর্কিত। সেগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা করা শহর ও স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হতো। কিন্তু এখনকার কৌশলটি কম দৃশ্যমান... অন্তত সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটার আগ পর্যন্ত তাই ছিল। তবে আপনি যদি সামগ্রিক প্রেক্ষাপট দেখেন, তবে ফলাফলে আসলে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি।’
রুইজ সোতো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়া আটক ব্যক্তিদের অনুপাতের দিকে ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো দলের তুলনায় এই গোষ্ঠীর আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা মুলিনের দায়িত্ব পালনের প্রথম কয়েক মাসেও প্রায় একই স্তরে বজায় ছিল।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, আইস-এর গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রতিদিন ডিটেনশনে নথিভুক্ত হওয়া মানুষের গড় সংখ্যা জুন মাসে ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা মুলিনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মাস এপ্রিলের তুলনায় ৩২% বেশি।
ইউএসএ টুডে-এর সংগৃহীত ঐতিহাসিক তথ্যের বিবরণী অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে শুরু করে যেকোনো একক মাসের হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ।
এই বৃদ্ধি লক্ষণীয় হলেও, দেশত্যাগের বা বহিষ্কারের হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর যে সাময়িক ভাটা পড়েছিল, তা কেটে যাওয়ার পর আটকাধীন মানুষের মোট সংখ্যা আবারো বেড়েছে।
ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র এক ইমেইলে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিতাড়নের কাজ সংস্থাটি বজায় রেখেছে। ওই মুখপাত্র দাবি করেন, আইস-এর বেশিরভাগ গ্রেফতারই কোনো অপরাধে অভিযুক্ত বা দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, আইস-এর গ্রেফতারে অপরাধের রেকর্ড না থাকা আটক ব্যক্তির সংখ্যা মোট আটকের ৩৭%-এ পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল মাত্র ৬%।
২০ জুলাই প্রকাশিত তথ্যটি ছিল এপ্রিলে দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদের পর টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় পর পাওয়া প্রথম তথ্য। এর ফলে ২০২৬ সালে তথ্য প্রকাশের মধ্যবর্তী গড় সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দিনে, যা ঐতিহাসিক নিয়মের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
২০২৫ সালজুড়ে (ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছর) এবং তার আগের চার বছর ধরে আইস কংগ্রেসের নির্দেশিকা মেনে তুলনামূলকভাবে প্রতি দুই সপ্তাহে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে আসছিল।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক ডেভিড বিয়ার বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে একপ্রকার অন্ধকারের মধ্যেই ছিলাম। প্রশাসনের কৌশল কী ছিল এবং তারা কী করছিল তা না জেনে থাকাটা দীর্ঘ সময়। তাই অবশেষে তারা যে এটি জনসমক্ষে আনল, তাকে স্বাগত জানানো যায়।’
তবে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন অন্যান্য দিক থেকেও থেকে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক পর পর দুটি গোলাগুলির ঘটনা এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে, দেশব্যাপী কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা পরানোর বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এজেন্টরা কেন বডি ক্যামেরা পরে ছিলেন না। এর জবাবে ১৯ জুলাই হোয়াইট হাউসের বর্ডার চিফ টম হোমান জানান, আইস এখন থেকে তার কর্মকর্তাদের গাড়ি থামানোর সময় অন্তত একটি বডি ক্যামেরা দিয়ে তা রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক করবে।

















