রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

পণ্যের উপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ

২০০০ ডলার কিভাবে করবেন ট্রাম্প

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

২০০০ ডলার কিভাবে করবেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে আমদানি করা পণ্যের উপর ব্যাপক হারে ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপের মাধ্যমে যে বিপুল রাজস্ব আদায় করছেন, তার একটি অংশ আমেরিকান নাগরিকদের সরাসরি দুই হাজার ডলার করে প্রদানের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা এবং অর্থসংস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার আরোপিত শুল্ক থেকে আসা ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার’ রাজস্বের একটি অংশ ব্যবহার করে এই অর্থ প্রদান করা হবে। তার মতে, এই শুল্কের অর্থ দেশে আসছে এবং এটি আমেরিকানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া উচিত।
এই ডিভিডেন্ড চেকগুলো ‘নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মার্কিন নাগরিকদের’ জন্য হবে এবং ‘উচ্চ আয়ের লোকেরা’ এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, পরিবারপিছু বার্ষিক এক লাখ ডলার বা তার কম আয় করা পরিবারগুলো এই চেক পেতে পারে, যা কোভিড-১৯ সময়ের উদ্দীপক চেকগুলির মতো একটি আয়সীমার ধারণা দেয়।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপটি আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা এবং তার বাণিজ্য নীতির সমর্থন জোগানোর লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনার অঙ্ক নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দুই হাজার ডলারের এককালীন ডিভিডেন্ড চেক দেশের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে (শিশুসহ সকল আমেরিকানকে দিলে)।
অথচ, বর্তমানে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক থেকে বার্ষিক যে রাজস্ব আসছে, তার পরিমাণ এই খরচের চেয়ে অনেক কম। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন অনুমান করে যে ২০২৫ সালে শুল্ক থেকে প্রায় ১৫৮.৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে।
অতএব, প্রয়োজনীয় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের জন্য শুল্ক রাজস্ব তিন গুণ কম। বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনাটিকে ‘ঘাটতি-দ্বারা-অর্থায়নকৃত উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ এটি আসলে জাতীয় ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে।
অনেক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, শুল্কের অর্থ বিদেশিরা নয়, বরং আমেরিকান ভোক্তারা বেশি দামে পণ্য কিনে পরিশোধ করেন। তাই এই অর্থ প্রদানটি আসলে দেশের ভেতরেই ট্যাক্স সংগ্রহ করে প্রশাসনিক খরচ বাদ দিয়ে একটি ছোট অংশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।
সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকে। সুতরাং, এই দুই হাজার ডলার ডিভিডেন্ড কার্যকর করতে গেলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তাছাড়া, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের আরোপিত কিছু শুল্কের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ চলছে। যদি সেই শুল্কগুলো অবৈধ বলে রায় দেওয়া হয়, তবে সেই রাজস্ব আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হবে, ফলে ডিভিডেন্ড দেওয়ার মতো অর্থ থাকবে না।
 

শেয়ার করুন: