রোববার, ১৬ জুন ২০২৪

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

‘আবারো হুমকি দিয়ে বললেন কোটি কোটি অভিবাসীকে ডিপোর্ট করবো’

প্রথম দিনেই সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন ট্রাম্প! 

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২৪ মে ২০২৪

প্রথম দিনেই সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন ট্রাম্প! 

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রথম মেয়াদেই কাজটি করবেন। এখন আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আবারো নির্বাচিত হলে তার হুমকিটি বাস্তবায়ন করবেন : অনুমোদন ছাড়া বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কোটি কোটি অভিবাসীকে তিনি বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, কাজটি করার জন্য তিনি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী এবং ন্যাশনাল গার্ডদের ব্যবহার করবেন। তিনি এমন কথাও বলেছেন যে, এ কাজটি করার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ক্যাম্প নির্মাণ কিংবা সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
নিউজার্সির ওয়াইল্ডউডে এক সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার নতুন প্রশাসনের প্রথম দিনে আমি সীমান্ত বন্ধ করে দেব, আমাদের সীমান্ত দিয়ে প্রবল বেগে ঢোকা বন্ধ করে দেব, জো বাইডেনের বিদেশিদের তাদের দেশে পাঠিয়ে দেব।’
তার এই প্রস্তাবকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীরা চরমপন্থা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এমনটা করা হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডেভিড লিওপোল্ড এবিসি নিউজকে বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, দুঃস্বপ্ন নেমে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘ঘৃণাপূর্ণ মতাদর্শ ছাড়া এতে আর কোনো অর্থনৈতিক বা সামাজিক যুক্তি নেই।’
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সর্বসাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অবৈধভাবে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অভিবাসী বসবাস করছে। এদের বেশিভাগ (৭৯ শতাংশ) ২০১০ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।
আর এফডব্লিউডি.ইউএস নামের ইমিগ্রেশন অ্যাডভোকেসি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মিলিয়ন লোক যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছে মিশ্র মর্যাদার বাড়িতে। এসব বাড়িতে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী কিংবা অন্য কোনো বৈধ রেসিডেন্টের সাথে অন্তত একজন অবৈধ ব্যক্তি বাস করছে।
ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারের সভাপতি কিকা মাতোস বলেন, ‘এসব নীতি একেবারে প্রতিটি আমেরিকানকে স্পর্শ করবে।’
তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, আমরা বিধ্বস্ত সম্প্রদায়, পরিবারের আলাদা হওয়া, বর্ণবাদের বিস্তার, আমাদের সংবিধানের ভুলণ্ঠিত হওয়া, অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা বলছি। আমাদের জাতির ওপর সৃষ্ট এর কূটনৈতিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের কথা না হয় নাই বলা হলো।
ট্রাম্পের সীমান্তে পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করা, মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি নীতি চ্যালেঞ্জ করেছিল ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টার। এবারো তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বশেষ গণবহিষ্কার বা ডিপোর্ট হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট ডুহাইট ডি আইজেনহাওয়ারের সময়। তিনি প্রায় ১০ লাখ অবৈধ মেক্সিকানকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। এসব লোকের অনেকে ছিলেন বাস, ট্রেন বা কার্গো জাহাজের খ-কালীন বা মওসুমি শ্রমিক। ট্রাস্পও ওই ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে পারেন।
কিন্তু এখন ওই ধরনের পদক্ষেপ নিতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হবে। ডিটেনশন স্পেস বানাতে হবে, বিপুলসংখ্যক আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যের প্রয়োজন হবে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের কর্মকর্তা জর্জ লরি বলেন, গণবহিষ্কারের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, ট্রাম্পের যে তা নেই, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
ননপার্টিজান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মুজাফফর চিশতি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এই প্রক্রিয়ার জন্য যে শ্রম ব্যাপকতার প্রয়োজন, তা তারা বোঝেন।’
তিনি বলেন, আমাদের মতো মিশ্র সমাজে কোনো অবৈধ শ্রমিককে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি মাত্র এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার জন্য বিপুলসংখ্যক জনশক্তিগত সম্পদের প্রয়োজন হয়।’
তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পারবেন যে কাজটি করার চেয়ে না করাই সহজ। 
তিনি মনে করেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে, সম্ভবত নির্বাচনের পর তা আর শোনা যাবে না।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসীদের গণবহিষ্কার বা ডিপোর্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করেননি।
 

শেয়ার করুন: