শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগের  দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ৭ আগস্ট ২০২৬

জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগের  দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া সংঘর্ষে আহত একজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়। সংঘর্ষে আহত একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গ্রেফতার ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে হামলার সঙ্গে নিজের নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে নবান্ন পার্টি হলে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সমর্থকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন স্বপ্নীলের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে। 
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে হাতাহাতির পাশাপাশি রাস্তায় ব্যবহৃত সাইন বা রোড সাইন দিয়ে একে অপরকে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে শিহাব আহমেদ গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
ঘটনার একপর্যায়ে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি তারা সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। এ সময় হামলার আলামতসহ আহত শিহাবের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন রাহুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া। তবে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্ব ও সমর্থকদের কারণেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় তারা ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান। তার দাবি, সংঘর্ষের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। হামলার জন্য তাকে দায়ী করার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষি প্রমাণিত হলে তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাড়াবেন বলে জানান।
এদিকে ঘটনাটিকে অনাকাঙিÍ্ষত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, দলীয় কোনো কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের নিজেদের মধ্যে এ ধরনের সংঘাতে জড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। দল যখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত দলের জন্য ক্ষতিকর বলেও তিনি মনে করেন।
ঘটনার পর ড. সিদ্দিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হয়েছে, যাদের তিনি বহিরাগত হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রভাব সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি করছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক পরিসরে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন ব্যক্তিগত সংঘাত বা সহিংসতায় রূপ না নেয়, এমন আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটির অনেকে।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, দলের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মধ্যে বিভক্তি আরও গভীর হলে সংগঠন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক পক্ষ যেখানে সভাপতির পদত্যাগ দাবি করছে, অন্যদিকে সভাপতি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন। ফলে এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক পর্যায়ে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
 

শেয়ার করুন: