রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

তরুণ প্রজন্ম মারাত্মাক আসক্ত ভ্যাপিংয়ে

নিউইয়র্কে কিশোরদের মধ্যে  ই-সিগারেটের প্রবণতা বৃদ্ধি

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নিউইয়র্কে কিশোরদের মধ্যে  ই-সিগারেটের প্রবণতা বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট ব্যবহারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় একটি বড়সড় জনসচেতনতামূলক প্রচারভিযান শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ। গত এক মাস ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ধারাবাহিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই প্রচারভিযান চালানো হচ্ছে।

অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডক্টর জেমস ম্যাকডোনাল্ড সম্প্রতি ‘নিউ ইয়র্ক ওয়ান-এর ‘নিউজ অল ডে’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই প্রচারভিযানের মূল লক্ষ্য হলো কিশোর-কিশোরী, তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক এবং অভিভাবকদের ভ্যাপিং ও ই-সিগারেটের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা।
সাক্ষাৎকারে ডক্টর ম্যাকডোনাল্ড নিকোটিনের আসক্তি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিকোটিন অবিশ্বাস্য রকমের আসক্তিমূলক একটি পদার্থ। এটাই এখানকার সবচাইতে বড় সমস্যা। একবার কেউ এর সংস্পর্শে এলে শরীর বারবার এটি পেতে চায়।’
রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের ১৩ শতাংশেরও বেশি তরুণ ই-সিগারেট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, অনেক তরুণই মনে করে ভ্যাপিং সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর ভেতরের রাসায়নিক এবং উচ্চমাত্রার নিকোটিন অল্প বয়সেই ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি এবং মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বাহারি ফ্লেভার এবং সুন্দর প্যাকেজিংয়ের আড়ালে থাকা এই পণ্যগুলো আসলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা তাদের সন্তানদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন এবং ভ্যাপিংয়ের কুফল সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই সাঁড়াশি প্রচারভিযানের ফলে আগামী বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যে তামাক ও নিকোটিন জাতীয় পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
 

শেয়ার করুন: