শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রথম গ্রোসারি স্টোর 

মামদানির পরিকল্পনায় আকাশ  থেকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা

নবযুগ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৩২, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মামদানির পরিকল্পনায় আকাশ  থেকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মালিকানাধীন একটি সুপারমার্কেট খুলতে ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলারের বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এতে হতবাক হয়ে গেছেন গ্রোসারি খাতের নির্বাহীরা। তাদের মতে, এই অত্যধিক ব্যয়বহুল প্রকল্পটি পাড়ার ধুঁকতে থাকা মুদি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

জানা গেছে, মেয়র আগামী বছর হারলেমে ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সিটির নিজস্ব প্রথম গ্রোসারি স্টোর তৈরির পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যের দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত শরতের নির্বাচনী প্রচারণায় পাঁচটি সরকারি স্টোর খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, এটি তারই প্রথম ধাপ।
ন্যাশনাল সুপারমার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অ্যান্থনি পেনা মিডিয়াকে বলেন, “৩০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্কটা দেখে আমি প্রায় আকাশ থেকে পড়েছি। ম্যানহাটনের মাঝখানে একটি অত্যন্ত দামী স্টোর তৈরি করতেও এত টাকা খরচ হয় না।”
নিউইয়র্কের ১৭টি স্টোরের চেইন ‘মর্টন উইলিয়ামস’-এর সাবেক মালিক আভি কানার বলেন, ‘একটি সুপারমার্কেট বানাতে ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করাটা অনেক বড় অপচয়।’ কানার ও পেনা উভয়েই জানান, সাধারণত ১৫,০০০ বর্গফুটের একটি স্টোর (যেখানে লিফট বা এস্কেলেটরের প্রয়োজন নেই) ১০ মিলিয়ন ডলারের কম খরচেই তৈরি করা সম্ভব।
তবে শুধু খরচ নয়, স্টোরটির অবস্থান নিয়েও উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা। ইস্ট ১১৫ নম্বর স্ট্রিট এবং পার্ক অ্যাভিনিউয়ের কোণে অবস্থিত মেট্রো নর্থ রেললাইনের নিচে ‘লা মার্কেটা’ নামক একটি পুরনো সিটি মার্কেটের পাশের খালি জায়গায় এই সরকারি স্টোরটি তৈরি করা হবে।
আসল সমস্যা হলো : এ এলাকাটি মোটেও ‘ফুড ডেজার্ট’ (যেখানে সুপারমার্কেট বা খাবারের দোকানের অভাব রয়েছে) নয়। এনএসএ-র তথ্য অনুযায়ী, লা মার্কেটার দুই ব্লকের মধ্যেই ‘ফাইন ফেয়ার’, ‘সিটি ফ্রেশ’ এবং ‘চেরি ভ্যালি’-সহ পাঁচটি গ্রোসারি স্টোর রয়েছে। আর পাঁচ ব্লকের মধ্যে রয়েছে মোট ১৫টি দোকান।
পেনা একে স্থানীয় স্বাধীন মুদি ব্যবসায়ীদের গালে একটি ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন,  ‘দোকান মালিকরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। যখন আপনার প্রপার্টি ট্যাক্স ১০% বেড়ে যাচ্ছে, তখন জিনিসের দাম কমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।’ তার মতে, ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ এবং ক্রমাগত চুরির সমস্যার কারণে শহরে এই জাতীয় স্টোরের সংখ্যা ২০২১ সালের ৫০০ থেকে বর্তমানে ৪০০-তে নেমে এসেছে।
মেয়রের কার্যালয় থেকে স্টোরটির আয়তন জানানো হয়নি। তবে জানানো হয়েছে, ৩০ মিলিয়ন ডলার কেবল প্রথম স্টোরটি একদম শুরু থেকে নির্মাণের মূলধন হিসেবে ধরা হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করা এক ভিডিওতে মেয়র দাবি করেন, লা মার্কেটার ১০ মিনিটের হাঁটা পথের মধ্যে প্রায় ৬৫,০০০ মানুষ বাস করেন, যাদের ৪০ শতাংশই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
এই সরকারি স্টোরটির অপারেটরকে কোনো ভাড়া বা সিটির প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে না। ব্রঙ্কসের এক সুপারমার্কেট মালিক এবং ‘সিটি বোদেগা অ্যান্ড স্মল বিজনেস গ্রুপ’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস কোলাডো বলেন, ‘পরিশ্রমী নাগরিক এবং বিদ্যমান স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত করের টাকা দিয়ে একটি অপ্রমাণিত সরকারি প্রকল্পকে ভর্তুকি দেওয়া মৌলিকভাবেই অন্যায্য।’ তার মতে, এই অর্থ বেসরকারি খাতের সাথে প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত ছিল।
এর আগে প্রশাসন জানিয়েছিল যে, পাঁচটি বরোতে (প্রতিটি বরোতে একটি করে) সিটির নিজস্ব সুপারমার্কেট খুলতে মোট ৭০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
মেয়র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যখন বড় কর্পোরেশনগুলো খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন দাম বাড়ে কিন্তু মজুরি বাড়ে না; ফলে কর্মী এবং গ্রাহক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণেই আমরা একটি সরকারি বিকল্প চালু করছিয়া এই বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত যে, বাজার ব্যবস্থা যখন ব্যর্থ হয় তখন সিটি প্রশাসনকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে।’
কোলাডো পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মেয়রের উচিত ব্যবসায়ীদের খরচ কমানোর দিকে নজর দেওয়া এবং পিছিয়ে পড়া এলাকায় বেসরকারি গ্রোসারি স্টোর সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন দাবি করছে এই স্টোরগুলো মুদ্রাস্ফীতির জবাব, কিন্তু তারা বুঝতে পারছেন না যে তাদের নিজস্ব নানা বিধিনিষেধ, আইনি জটিলতা এবং বাড়তি ফি-ই এই মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ।’
 

শেয়ার করুন: