ছবি: সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়া একটি নতুন নিয়মের ফলে প্রায় ২ লাখ অভিবাসী ট্রাকচালক তাদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল হারাতে পারেন।
নতুন এই প্রবিধান অনুযায়ী, বেশির ভাগ অভিবাসীর জন্য এই লাইসেন্স রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যারা এইচÑ২এ (সাময়িক কৃষি শ্রমিক), এইচÑ২বি (সাময়িক অকৃষি শ্রমিক) অথবা ইÑ২ (চুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগকারী) ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, কেবল তারাই এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবেন।
সবচেয়ে নতুন এই নিয়মের আওতায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, ‘ডাকা’ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত অভিবাসী এবং সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএস-প্রাপ্তদের লাইসেন্স পাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নীতিটি বাতিলের জন্য বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে।
চালকদের লাইসেন্সগুলো মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বাতিল হয়ে যাবে, তাৎক্ষণিকভাবে নয়। তবে ‘ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ রাজ্যগুলোকে দ্রুত তাদের চালকদের যোগ্যতা যাচাই করার জন্য ‘জোরালো সুপারিশ’ করেছে।
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং রাজ্যগুলো কর্তৃক অবৈধভাবে লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসন সিডিএল-ধারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে ফ্লোরিডায় এক ট্রাক চালক, যার যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অনুমতি ছিল না, অবৈধভাবে ইউ-টার্ন নিতে গিয়ে একটি দুর্ঘটনা ঘটান, যাতে তিনজন নিহত হন। প্রশাসন ইন্ডিয়ানা রাজ্যে ঘটা আরো দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জন্য দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দায়ী করেছে।
নতুন এই নিয়ম ঘোষণার সময় গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবহন সচিব শন ডাফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা বিপজ্জনক বিদেশি চালকদের আমাদের ট্রাক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে দিয়েছে, যা আমাদের সড়কগুলোতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই নিরাপত্তা ত্রুটি আজ শেষ হলো।’
গত মাসে বিভাগটি আরো একটি নির্দেশ জারি করেছে, ট্রাক চালকদের তাদের লাইসেন্স পরীক্ষা অবশ্যই ইংরেজিতে দিতে হবে। বাণিজ্যিক চালকদের ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, আগে অনেক রাজ্য তাদের অন্য ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিত।

















