ছবি: সংগৃহীত
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং পরস্পরবিরোধী অর্থনৈতিক সংকেত সুদের হার কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, উত্তরসূরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদের হার ৩.৫% থেকে ৩.৭৫% এর মধ্যে রাখার পক্ষে ১১-১ ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করে পাওয়েল রসিকতা করে বলেন, ‘যদি কোনো মিটিংয়ে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকত, তবে এটিই হতো সেই উপযুক্ত সময়। কারণ আমরা সত্যিই জানি না ভবিষ্যতে কী হবে।’
বেশির ভাগ নীতি-নির্ধারক চলতি বছরের জন্য তাদের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছেন। বহুল আলোচিত ‘ডট প্লট’ অনুযায়ী, চলতি বছর একবার এবং ২০২৭ সালে আরেকবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ফেড সদস্যদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট; কমিটির ১৯ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা এ বছর সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না।
এই খবরের পর শেয়ার বাজারে ধস নামে। ডাউ জোন্স ৭৬৮ পয়েন্ট বা ১.৬% পড়ে যায় এবং এস অ্যান্ড পি ৫০০ ও নাসদাক ১%-এর বেশি কমে।
পাওয়েল ইঙ্গিত দেন, অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পরও মার্কিন অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি জানান, কর্মসংস্থান বাড়ার ধীরগতির একটি কারণ হলো অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ি, আর মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে শুল্ক এবং মহামারি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর শুল্কের ধাক্কা গেছে, মহামারি গেছে এবং এখন আমরা জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশার জন্য এটি দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।’
নীতিনির্ধারকেরা সাধারণত জ্বালানি সংকটের প্রভাবকে সাময়িক হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। এতে আশঙ্কা বাড়ছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ জেদি মুদ্রাস্ফীতিকে আবারো বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফেড কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। কেউ কেউ শ্রম বাজারকে চাঙ্গা করতে সুদের হার আরো কমানোর পক্ষে, আবার অন্যরা মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ভয়ে হার ধরে রাখতে চান। বুধবারের সিদ্ধান্তে গভর্নর স্টিফেন মিরান ভিন্নমত পোষণ করেন এবং সুদের হার ০.২৫% কমানোর পক্ষে ভোট দেন।
এদিকে, সরকারের তথ্যানুযায়ী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৭%, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থবির প্রবৃদ্ধির এক বিষাক্ত মিশ্রণ বা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে কর্মসংস্থানের রিপোর্টও বেশ দুর্বল ছিল, যেখানে দেখা গেছে ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২,০০০ মানুষ কাজ হারিয়েছেন এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৪% হয়েছে।
তবে পাওয়েল স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের মতো ভয়াবহ নয়।
আগামী মে মাসে পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জায়গায় কেভিন ওয়ারশ-কে মনোনীত করেছেন। তবে কংগ্রেসের আপত্তির কারণে ওয়ারশের নিয়োগ এখনো নিশ্চিত নয়। পাওয়েল জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

















