ছবি: সংগৃহীত
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অভিবাসন হেফাজতে আটক গর্ভবতী ব্যক্তিদের পূর্ণ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আমান্ডা ইসাবেল ফানেগো কার্ডোসো যখন গত সেপ্টেম্বরে আটক হন, তখন তিনি ১১ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। কয়েক মাস ধরে তাকে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন অভিবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি জানান, সেখানে চিকিৎসা সেবা এতটাই সীমিত ছিল, গত ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেই পারেননি যে তিনি গর্ভাবস্থা-সংক্রান্ত প্রাণঘাতী জটিলতায় ভুগছেন।
সেসিল এলভির-কুইনোনেজ জানুয়ারিতে আটক হওয়ার সময় আট সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন এবং তার পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে স্তন্যপান করাচ্ছিলেন। ৬ জানুয়ারি ফেডারেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রচ- রক্তপাত ও খিঁচুনি শুরু হলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিনই তাকে লুইসিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার পরিবারের দাবি, রক্তপাত অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাকে আর কোনো ফলো-আপ চিকিৎসা বা প্রসবপূর্ব চেকআপ দেওয়া হয়নি।
মিনেসোটার এক গর্ভবতী নারী জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে আটক হন। তার আইনজীবীর মতে, হেফাজতে থাকাকালীন তার পেটে প্রচ- ব্যথা শুরু হয়। তাকে এবং তার পরিবারকে টেক্সাসের এমন একটি কেন্দ্রে পাঠানো হয় যেখানে কোনো প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। একজন নার্স তার রক্তচাপ মাপলেও পেটের ব্যথার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি। প্রতিহিংসার ভয়ে ওই নারী বা তার আইনজীবীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক মারিয়ানেলা লিওন এস্পিনোজা প্রায় দুই মাস বন্দি থাকলেও আদালতকে জানিয়েছেন, পুরো সময়ে তাকে মাত্র একবার চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল।
নীতিমালা বনাম বাস্তবতা
সরকারি মানদ- অনুযায়ী, আটক গর্ভবতী ব্যক্তিদের প্রসবপূর্ব নিয়মিত চেকআপ, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সেবা, ভিটামিন, সঠিক পুষ্টি এবং ব্যায়ামের সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু আদালত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং বন্দি ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎকার এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আটক ব্যক্তিরা বলছেন, রক্তপাত বা অসহ্য ব্যথার মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও তারা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার পর পরীক্ষার ফলাফলও তাদের জানানো হয় না।
দ্য নাইনটিনথ এমন অনেক অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। বুধবার ‘উইমেন্স রিফিউজি কমিশন’ এবং ‘ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’ কর্তৃক প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে গর্ভবতী অভিবাসীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গবেষকরা হন্ডুরাসে গিয়ে সম্প্রতি ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন দৃশ্যত গর্ভবতী ছিলেন এবং চারজন সদ্য মা হয়েছিলেন। এই চারজনকেই তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল, যাদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল মাত্র দুই মাস।
সাক্ষাৎকারে তিন গর্ভবতী নারী জানান, তাদের ‘চিকিৎসা সেবা প্রায় ছিলই না, এমনকি পরিষ্কার পানি বা স্বাস্থ্যকর খাবারও দেওয়া হয়নি।’ একজন নারী জানান, তাকে যখন প্রসবপূর্ব পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়, তখন পুরোটা সময় তার হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল এবং প্রস্রাবের নমুনা দেওয়ার সময়ও রক্ষীরা তাকে নজরে রেখেছিল।
ভয়াবহ পরিণতি
হন্ডুরাসের চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, ফেরত আসা অনেক নারীই সেখানে পৌঁছে জরুরি অস্ত্রোপচারের শিকার হয়েছেন। এক নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যার গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার ১০ দিন পর তাকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, ফলে নিজ দেশে পৌঁছানোর পর তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা নিতে হয়। আরেক নারী ডিটেনশন সেন্টারে রক্তপাতের কথা রক্ষীদের জানালেও কোনো সাহায্য পাননি। তাকেও হন্ডুরাসে পৌঁছানোর পর সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।

















