ছবি: সংগৃহীত
ধর্ম বেশ জটিল বিষয়। পৃথিবীতে ধর্মের সংখ্যা ঠিক কত তার হিসাব অনেকটাই অজানা। বহু মানুষ এখনো অপ্রচলিত স্থানে বসবাস করে। যেখানে সভ্যতা পৌঁছেনি আদৌ। মাঝে মাঝে এখানে ওখানে গহীন বনে মানুষের সন্ধান মিলে। মূল পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। আমাদের সাথে তাদের জীবনযাত্রার কোন মিল নেই।
তাদের দেখলে আমাদের যেমন অদ্ভুত লাগে, তারাও যদি আমাদের দেখে বিস্মিত হয়! তাদের কাছে অনেক কিছুরই মানে নেই বা গুরুত্ব নেই, যা আমাদের কাছে সহজাত। এদের কোন ধর্ম আছে বা নেই সেটাই ক‘জন জানি? এরা কি একাল বা সেকাল নিয়ে ভাবে কিছু? যাই হোক এত গহীন অরণ্যে এখন নাইবা প্রবেশ করি। অপেক্ষাকৃত আলোতে বাস করা মানুষ আর ধর্মেই নিবিষ্ট থাকি আপাতত।
আমরা অনেকেই বলে ফেলি উনি বেশ ধার্মিক তাই মানুষটা ভালো। কেউ আবার বলি আমার ধর্মই সেরা তাই আমরা মানুষ হিসেবেও সেরা। কি সহজ মাপামাপি! কিন্তু লক্ষ কোটি মানুষ আছে যারা তেমন ধর্ম কর্ম করে না। এমনকি কোনরূপ ধর্ম বিশ্বাসও অনেকের মাঝে নেই। এদের মাঝে অগণিত ভালো মানুষ আছে এবং খারাপ মানুষও আছে। যেমনটি আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম মানে তাদের ভেতরেও।
এক জীবনে কারো ভালো ব্যবহার, জ্ঞান, নীতিবোধ, বিবেক, সততা এসবের বিচারেই তাকে আমরা ভালো বলে আখ্যা দেই। অন্যদিকে যাদের ভেতরে ওসবের বালাই নেই বরং অন্যের জন্য যিনি ক্ষতিকারক তাদেরকেই আমরা খারাপ বলে গণ্য করি। উপরোক্ত বিশেষণ গুলোতে ধর্মের কিন্তু উপস্থিতি নেই। অর্থাৎ কেউ কোনো ধর্ম কর্ম না করেও ওইসব অর্জন করতে পারেন। তাই কে কত ধার্মিক, কে কোন ধর্ম করে এ নিয়ে মানুষের ভালো মন্দ মাপা ঠিক নয় বা উচিত নয়। এ লেখার উদ্দেশ্য কোন ধর্মকে হেয় করা নয় বা ছোট করা নয়। শুধু বলার বিষয় হলো ধর্মের লেবাস দেখেই কারো প্রেমে পড়ার মানে নেই বা কাউকে উত্তম কিংবা অধম তকমা দেয়ারও যুক্তি নেই।
মানুষকে বিচার করতে হবে তার মহত্ব, উদারতা, বিবেচনাবোধ, সত্যনিষ্ঠা, সহমর্মিতা, পক্ষপাতহীনতা ইত্যাদি বিষয় দিয়ে। একজন ধর্মপ্রাণ অমানুষ বা ভালো মানুষ যেমন হ‘তে পারে আবার একজন অধার্মিকও ভালো মানুষ বা অমানুষ হ‘তে পারে। তাই ধর্ম নয় মানুষকে বিচার করুন তার কর্ম দিয়ে, কিংবা জীবনাচরণ দিয়ে। তৎসঙ্গে আমাদেরও নিজেদের কর্ম নিয়ে মাপামাপি করা উচিত, যে আমরা নিজেরাই বা কতটা ভালো মানুষ কিংবা মন্দ মানুষ।
লেখক: অভিনেতা।

















