রোববার, ১৬ জুন ২০২৪

সাপ্তাহিক নবযুগ :: Weekly Nobojug

নিউইয়র্কে মায়ের স্মৃতিচিহ্ন ফেলে দেশে ফিরছেন তুষার ( দেখুন, ভিডিও)

নবযুগ ডেস্ক

আপডেট: ২২:১৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আজ থেকে দীর্ঘ ৩১ বছর পূর্বের কথা। মায়ের হাত ধরে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় এসেছিলেন এম বি তুষার। কৈশোর-যৌবনের সোনালী দিনগুলো কাটিয়েছেন এই বিদেশ বিভুইয়ে। দীর্ঘ এ প্রবাস জীবনে এই আমেরিকাই হয়ে উঠেছিলো জীবনের সবকিছু। কিন্তু সেই সবই এখন তার কাছে তুচ্ছ। পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছেন সেই মমতাময়ী মাও। নিউইয়র্কে চিরঘুমে রয়েছেন গর্ভধারিণী মা। তাইতো সবকিছুকে পেছনে ফেলে এবার এমবি তুষার ফিরছেন মাতৃভূমি বাংলাদেশে।

মায়ের আঁচল ধরে তুষার যখন আমেরিকায় আসেন তার কিছুকাল পরই জীবনযুদ্ধে নামতে হয়েছিলো তাকে। নব্বই দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনস্রোত তখন বাড়ছে। তুষার মিশে যান সেই স্র্রোতের সঙ্গে। জীবনের বাস্তবতায় দেশের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অনেকটা। নতুন করে শেকড় গাড়েন এই প্রবাসেই।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব কাঁপানো হামলার গ্রাউন্ড জিরো ছিল ম্যানহাটানের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। তুষার কাজ করেন প্যরামেডিক্স হিসেবে। প্রথম বাংলাদেশি কোন প্যারামেডিক্স গ্রাউন্ড জিরোর উদ্ধারকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। নিজের জীবন বিপন্ন করে যুবক তুষার দাঁড়ান অচেনা মানুষের পাশে। পেশাগত কাজের দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ।

২০১২ সালে মা হারিয়েছেন তুষার। একমাত্র সন্তানকে আগলে রাখা জননীকে আমেরিকার মাটিতে সমাহিত করে এখন তার অনুশোচনার শেষ নেই। মায়ের কবর রেখেই তাকে ফিরতে হবে দেশে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড মহামারি শুরু হলে তুষার আবার  নেমে পড়েন মানবতার আহ্বানে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছিল নিউইয়র্কে। অবরুদ্ধ নগরে প্যারামেডিক্স হিসেবে এম বি তুষার অ্যাম্বুল্যন্সের ভীতিকর সাইরেন বাজিয়ে ছুটছেন নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সে সময় তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন মিডিয়া।

বারবার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেমে নিজের শরীর ও জীবনকে বিপন্ন করেছেন তুষার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন যৌবনেই। প্যারামেডিক্স হিসেবে তার পেশা ছাড়াও নিউইয়র্কের প্রায় সব কমিউনিটি অনুষ্ঠানে তাকে ক্যামেরা হাতে দেখা যায়। ফটোগ্রাফি তার নেশা। যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন অনেকদিন ধরেই।

কেন এতদিন দেশে ফেরেননি? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে চলেন তুষার? আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের বৈধতা, না ব্যক্তি জীবনের ভিন্ন কোনো দুঃখবোধ তাকে তাড়িত করছে সে প্রশ্নের উত্তর অজানা থেকে যায়।

তিন দশকের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফরছেন এম বি তুষার। ব্রঙ্কসের দীর্ঘদিনের চলাফেরায় তার রয়েছে অসংখ্য বন্ধু-শুভাকাঙ্খী। দেশে ফেরার খবরে তারাও ভারাক্রান্ত। তারপরও তুষারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। তাইতো নিউইয়র্কে বন্ধু স্বজনরা তাকে বিদায়ী অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

দেশে ফেরার প্রাক্কালে এম বি তুষারের আক্ষেপ মাকে নিয়েই। ঘুরে ফিরে মায়ের কথাই বলছেন। তুষার বলেন, ‘জানি না কার কাছে যাচ্ছি? যে দেশের মাটিতে আমার জন্ম। শৈশব-কৈশর কেটেছে যেখানে সেখানে আমার অপেক্ষায় কে আছে তাও জানি না। তবে এটা জানি নিউইয়র্ক আমার আশ্রয়স্থল। এ নগরের স্বদেশী লোকগুলো আমার স্বজন, কাছের মানুষ। তাদের ভালোবাসা আমার সঙ্গে থাকবে।’

শেয়ার করুন: